স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কেশবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক সংস্কার কাজে ব্যবহৃত বিটুমিন পোড়ানোর মিক্সচার মেশিনের চুল্লি স্থাপনের কারণে ধুলা, বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র শব্দদূষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং উদ্বিগ্ন হয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের সংস্কারকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মিক্সচার মেশিন বিদ্যালয়ের সামনেই স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিটুমিন পুড়িয়ে পাথরের সঙ্গে মিশিয়ে সড়ক নির্মাণের উপকরণ প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে সারাদিনজুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া, উড়ন্ত ধুলাবালি ও যন্ত্রের বিকট শব্দে পুরো এলাকা দূষিত হয়ে উঠেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। এমনকি শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও ধোঁয়া ও দূষিত বাতাস প্রবেশ করায় অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতায় ভুগছে। বুধবার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অনেকে বিদ্যালয়ে এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যান। এতে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
একাধিক অভিভাবক জানান, প্রায় ১৪ দিন ধরে বিদ্যালয়ের সামনে এভাবে বিটুমিন পোড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবেশের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে তারা অনীহা প্রকাশ করেন।
কেশবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “স্কুলের সামনে ধুলা, ধোঁয়া ও শব্দদূষণের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, অভিভাবকদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেকেই সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী আগ্রহ কমে যাবে। শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত চুল্লিটি অন্যত্র স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
