স্টাফ রিপোর্টার :
ভারী বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। অতিবৃষ্টির কারণে মাঠের অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে মরিচের সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে কেজি প্রতি দর বেড়ে দাড়িয়েছে ৩২০ টাকায়।

ফরিদপুরের কৃষিপ্রধান উপজেলা মধুখালী। একসময় সবুজ মরিচের গাছে ভরা এসব মাঠ এখন পানিতে ডুবে মৃতপ্রায়। টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
মরিচ আবাদের এই বিপর্যয়ের কথা জানালেন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে মধুখালী উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি ওঠায় মরিচ গাছ পচে ও মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।”
কৃষকদের দাবি, মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে মধুখালী এলাকার মরিচ চাষিরা জানিয়েছেন তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা।
রায়পুর ইউনিয়নের মরিচ চাষি রোকনউজ্জামান, ফিরোজ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান,
“অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। এখন বাধ্য হয়ে ক্ষেত তুলে ফেলতে হচ্ছে।
চাষিরা জানালেন,সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ আগেই বেড়েছিল। তার ওপর বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের টাকাও উঠে আসছে না। যা খরচ করেছি, তার অর্ধেকও ওঠেনি। এখন সরকারি সহযোগিতা পেলে আবার নতুন করে ঘুড়ে দাড়াতে পারবো।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় মরিচ আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৭০৬ মেট্রিক টন। তবে টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে মরিচের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ শ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফরিদপুর শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার, হেলি প্যাড বাজার গিয়ে দেখা যায়, প্রকার ভেদে মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন বাজারে মরিচের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজার দরে।
ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি এডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, মাঠে মরিচ নেই, কিন্তু বাজারে ঝালের দাম বাড়ছেই। আশঙ্কা করছি, কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা না মিললে আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি করছি।
