স্টাফ রিপোর্টার :
সুদীর্ঘ অপেক্ষার পর ( ২১ বছর) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইন বা ডার্ক লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অজিদের ৮৬ রানে হারিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বজ্রপাতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ১ উইকেট। আর অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৪৬ বলে ৯৪ রান।
তবে এরপর আর মাঠে ফেরা হয়নি দুই দলের খেলোয়াড়দের। শুরু করা যায়নি ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বৃষ্টি আইনে জয়ী ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
লক্ষ্য তাড়ায় অজিরা ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে করে ১৯১ রান। হারের মুখে পড়ে অ্যাডাম জাম্পাকে (৬*) নিয়ে শেষ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ক্যামেরুন গ্রিন (৫২*)।
তবে বজ্রপাতের কারণে দুজনে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এরপর আর মাঠে ফেরা হয়নি তাদের। গ্রিন ও জাম্পা শেষ উইকেটে করেন নিরবচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটি।
ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ১৫ বছর পর বাংলাদেশে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ২০২১ সালে ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু ওয়ানডেতে জয়ের স্মৃতি বিস্মৃত হতে বসেছিল প্রায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের আগের জয়টি এসেছিল ২০০৫ সালে।
ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে কার্ডিফে রিকি পন্টিং-অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচটি ৫ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ।
যেকোনো ফরম্যাটে সেটিই ছিল অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর ওয়ানডেতে অজিদের বিপক্ষে টানা ১৪ ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। অবশেষে সেই ধারায় ছেদ পড়ল।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ তিন ফিফটিতে পায় ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ। তার মধ্যে চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত করেন ৭০ বলে অপরাজিত ৮৪ রান।
এ ছাড়া ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ বলে ৫৪ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৬৭ রান। অজিদের হয়ে ৩ উইকেট নেন নাথান ইলিস। সমান ২ উইকেটে পেয়েছেন অভিষিক্ত লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজুর রহমানের এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন মার্নাস লাবুশানে (১)। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন মাত্র ২।
এরপর ওপেনার কুপার কনলিকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন জশ ইংলিস। এই অজি অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষককে ফেরান নাহিদ রানা। ১৯ রানে ফেরার সময় নাহিদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় ইংলিসের।
চতুর্থ উইকেটে কনলি ও অ্যালেক্স ক্যারির জুটিতে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে দুজনের ৪০ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশ দলে স্বস্তি ফেরান মোসাদ্দেক। কনলি ফেরেন ৩৫ রানে।
এরপর টানা তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে আবারও বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেট ব্যাটার ক্যারির পর বিদায় নেন ম্যাট রেনশ। তারপর ফেরেন স্কটও। ফিফটি থেকে ৩ রান দূরে থাকতে ফেরেন ক্যারি। নাহিদ রানার তোপ সামলাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।
ইনিংসের ২৯তম ওভারের তৃতীয় বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে বন্দী হয়ে ফেরেন ক্যারি (৪৭)। মোসাদ্দেকের করা পরের ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন রেনশ (২)। পরের ওভার করতে এসে চতুর্থ বলে গতির ঝড় তুলে স্কটকে (২) নিজের তৃতীয় শিকার বানান নাহিদ।
নিজের পরের ওভারে এসে এই স্পিডস্টার আউট করেন জাভিয়ের বার্টলেটকেও। এরপর নাথান ইলিসকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান মোস্তাফিজ।
তবে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মাঝে একাই লড়াই চালিয়ে যান গ্রিন। কিন্তু তাতেও অস্ট্রেলিয়ার বড় হারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোসাদ্দেক।
