স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা এসেছে সরকারের তরফে।
শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন পুলিশের থানা থেকে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিগগিরই ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করবে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ছয় মাস পর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী।
২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় সরকার।
তবে গণঅভ্যুত্থানের সোয়া এক বছরেও পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার করা যায়নি, যা আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার ঢাকার বিজয়নগরে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও জোরাল হয়েছে।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সউপদেষ্টা বলেন, “কোনো শঙ্কা নেই। তার নিরাপত্তার বিষয়ে যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, নেওয়া হবে।”
ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে যার নাম আসছে, তিনি গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা লুটের ঘটনায় অস্ত্র হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা তো গ্রেপ্তার করেছি। কিন্তু তাকে জামিন দেওয়ার ক্ষমতা তো আদালতের। আবার আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”
