সাইদা আক্তার ইমা:
অল্প জায়গায়, কম যত্নে, আর বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যে এই গাছ এখন হয়ে উঠেছে বাগানপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের। ফরিদপুরে ছাদ বাগানে নতুন এক সম্ভাবনার নাম ‘মরুর গোলাপ’। যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর উপজেলা সদরের একটি ছাদ বাগানে চাষ হচ্ছে নানা রঙের ‘মরুর গোলাপ’। স্থানীয়ভাবে এই ফুলগাছের চাষ এখন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিন তলার বিল্ডিংয়ের ১৮শ বর্গফুট জায়গা জুড়ে এখন এ ফুলের চাষাবাদ করছে তরুন উদ্যোক্তা আকাশ সাহা, এর পাশা-পাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতের ফুল। বর্তমানে ছাদ জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বিভিন্ন রঙের মরুর গোলাপ অ্যাডোনিয়াম ফুলের পাশা-পাশি ফুটেছে আরো বিরল প্রজাতির বিভিন্ন জাতের ফুল। এ ছাদ বাগানে রয়েছে চার হাজারের বেশি ফুলের গাছ। মরুর পোলাপগাছটির আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব মরুভূমি হলেও এটি এখন বাংলাদেশে জন্মাচ্ছে। এর ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’।
এ বাগানে ফুটেছে মরুর গোলাপ নামে খ্যাত অ্যাডোনিয়াম ফুল। সেখানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনসহ নানা রঙের অ্যাডোনিয়াম ফুল রয়েছে। এগুলোর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ সবাই। এই ছাদ বাগানে কাছে-দূরের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন প্রতিদিনই।
ছয় বছর আগে শখের বশে মাত্র ২০টি গাছ দিয়ে ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু করা হয়। ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা গাছগুলো দিয়ে শুরুতে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এরপর ৬ বছর ধরে তিনি কঠোর যন্তের মধ্যে দিয়ে গড়ে তুলেছেন পুরো বাগান। আকাশ সাহা এখন নিজেই একজন সফল উদ্যোক্তা। এখন তার ছাদ বাগানে আছে চার হাজারের বেশি গাছ। গাছ থেকে ফুল, ফুল থেকে বীজ এবং বীজ থেকে নিজেই চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদ বাগানে এখন প্রায় ৮ লাক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন জাতের ও রঙের ফুল গাছ আছে। বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা দেখতে আসেন। প্রতি মাসে তিনি অ্যাডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুল গাছের চারা বিক্রি করে অন্তত ২০-২২ হাজার টাকা রোজগার করছেন।
এই ছাদ বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী নয়ন বিশ্বাস, জনি সাহাসহ বেশ কয়েকজন জানালেন, বিদেশী জাতের ফুল আমাদের আবহাওয়া যে চাষ করা যায় তা দেখতে এসেছি। অনেকে পছন্দ করে কিনেও নিয়ে যাচ্ছি। এ বাগানে ফুলের সমারহ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে।
উদ্যোগক্তার পরিবারের সদস্যরা জানালেন, ‘আমাদের ছাদ বাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা আছে। আমরা এগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের গাছ ও ফুল আছে। আমরা সকাল-বিকেল পরিচর্যা করি। নিজেদের খুবই ভালো লাগে। মরুভূমির এসব গাছ ছাদে রোপণ করে মনের দিক থেকে প্রফুল্ল থাকি। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসে, চারা কিনতে আসে। এসব গাছে পানি কম লাগে এবং পরিচর্যাও কম করতে হয়। ফুলগুলো দেখতে খুবই চমৎকার।’
ফরিদপুরের বৃক্ষ প্রেমিক অ্যাডভোকেট গাজী শাহিদুজ্জামান লিটন বলেন, মরুর গোলাপ বা অ্যাডেনিয়াম চাষ খুবই সহজ। এই গাছটা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এর যত্ন নেওয়াও তুলনামূলক সহজ। কম পানি, বেশি রোদ—এই দুটো জিনিস পেলেই মরুর গোলাপ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
ফরিদপুর শহরের আরেক বৃক্ষ প্রেমিক শিপ্রা গোস্বামী বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়ায়ও এই গাছ বেশ মানিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ছাদ বাগান বা ছোট জায়গায় যারা বাগান করতে চান, তাদের জন্য এটি খুবই উপযোগী। আমি মনে করি, শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়—মানসিক প্রশান্তির জন্যও এই গাছ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে অনেকেই মরুর গোলাপ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, যা সত্যিই আনন্দের বিষয়। যদি আমরা সবাই নিজেদের বাসার ছাদ বা আঙিনায় এমন গাছ লাগাই, তাহলে পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি আমাদের জীবনও আরও সবুজ হয়ে উঠবে।”
উগ্যোক্তা আকাশ সাহা জানালেন তার স্বপ্নের কথা। তিনি বলেন, আমার বাগানে বহু জাতের ফুল গাছের চাষ করা হয়, এর মধ্যে মরুর গোলাপ ফুলের কয়েকটি কালারের রয়েছে এখানে। বাজারের গাদা, গোলাপ ফুল কিনে আনলে ফুল ঝড়ে গেলে সেটি ফেলে দিতে হয়, কিন্তু মরুর গোলাপ ধরণ ভিন্ন । আমি চেয়েছি ফুল চাষে বিনিয়োগ একবার করবো, বাব বার না।
তাছাড়া সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে বাবার ব্যবসা দেখা শোনার পাশা-পাশি নিজে কিছু করার চেষ্টা থেকেই এ পযন্ত আসা আমার । এখন আমার মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজারের বেশি টাকা রোজগার করতে পারি, এটাওবা কম কিসের।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষি বিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, কৃষি আবাদের পাশা-পাশি ফুল ও ছাদ বাগান চাষে এগিয়ে আসছে অনেক নতুর উগ্যোক্ততা। এতে তুলনা মূলক লাভের পরিমানও বেশি, জায়গাও লাগে অল্প । আমার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই সকল উগ্যোক্তাদের পাশে থেকে বিভিন্ন ধারনে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।
