স্টাফ রিপোর্টার :
গ্রীষ্ম এলেই অনেকের মাথাব্যথা বেড়ে যায়। অনেকে এটিকে সাধারণ সমস্যা মনে করলেও, এর পেছনে থাকতে পারে মাইগ্রেন। এটি এক ধরনের স্নায়বিক জটিলতা। গরমে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রক্তনালিগুলো প্রসারিত করে, যাকে বলা হয় ভ্যালিডেশন। আর এ কারণেই গরমে মাইগ্রেনপ্রবণ মানুষের মাথা ব্যথা হয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কিছু কারণ-
পানিশূন্যতা, তীব্র রোদ, আর ঘুমের ঘাটতি।
গরমে অতিরিক্ত ঘাম ঝরায় শরীর থেকে পানি কমে যায়, ফলে মস্তিষ্কে চাপ তৈরি হয়। আবার দুপুরের কড়া রোদ চোখ ও মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত উদ্দীপ্ত করে, ফলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
সাধারণ মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেন?
মাইগ্রেনকে সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে ভুল করা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু দুটির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার একপাশে হয়, ধকধকে ধরনের এবং নড়াচড়ায় বেড়ে যায়। অনেক সময় এর সঙ্গে বমি বমি ভাব বা আলো সহ্য না হওয়ার সমস্যা থাকে। অন্যদিকে, পানিশূন্যতার মাথাব্যথা তুলনামূলক হালকা এবং পানি খেলেই কমে যায়।

প্রতিরোধে কী করবেন?
গরমে মাইগ্রেন এড়াতে কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। তরমুজের মতো পানি-সমৃদ্ধ ফল খাদ্যতালিকায় রাখুন।
দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হলে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এছাড়া, নিয়মিত খাবার খাওয়া খুব জরুরি। খালি পেটে থাকা মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়ায়। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন,কারণ ভালো ঘুম মাইগ্রেন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যথা শুরু হলে করণীয়
মাইগ্রেন শুরু হলে প্রথমেই ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন। পর্যাপ্ত পানি বা ইলেক্ট্রোলাইট পান করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে শুধু পানি পান করলেই সবসময় উপশম হয় না।
কখন সতর্ক হবেন?
কিছু লক্ষণকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
গরমে মাথাব্যথা বাড়া অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সচেতন থাকলেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একটু যত্ন নিলেই গ্রীষ্মেও থাকা যাবে স্বস্তিতে।– সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
