স্টাফ রিপোর্টা:
পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। আর প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন মারুফা আক্তার।
ইনিংসের শুরুতেই আগুন ঝরানো বোলিংয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন ২০ বছর বয়সী এই পেসার। প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে দুর্দান্ত দুই ইনসুইঙ্গারে বোল্ড করেন ওমাইমা সোহেল ও সিদারা আমিনকে।
বৃহস্পতিবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে চমৎকার বোলিংয়ের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন মারুফা। নীলফামারী থেকে উঠে আসা ডানহাতি এই পেসারের সুইং আর গতিতে চোখে রীতিমত সর্ষে ফুল দেখেছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। বাংলাদেশকে জিতিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
গতিময় বোলিংয়ের জন্য ক্যারিয়ারে বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন মারুফা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে আবারও আলোচনায় তিনি। তার প্রশংসা করে পোস্ট দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদিন্ত পেসার লাসিথ মালিঙ্গাও।
তবে এতদূর আসাটা মারুফার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কঠিন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে জায়গা করে নিতে হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। মারুফার জন্ম নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ঢেলাপীর এলাকায়।বালা আইমুল্লাহ হক বর্গাচাষি আর মা মর্জিনা গৃহিণী। মা-বাবা, চার ভাই-বোনসহ মোট ছয়জনের বেশ বড়সড় পরিবার। বড় ভাই আল আমিন অনার্স করছেন নীলফামারী সরকারি কলেজে। মেজো ভাই আহসান হাবিব একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন কাদিমোল কম্পিউটার কলেজে।
২০১৮ সালে প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে বিকেএসপির নজরে আসেন মারুফা। তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে ১৮ বছর বয়সেই ডাক গেয়ে যান জাতীয় দলে।
বলা যায়, মারুফার হাত ধরেই ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে তার ২৯ রানে ৪ উইকেটের সৌজন্যে ভারতকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে হারায় বাংলাদেশ।
মসৃণ রান-আপ, দুর্দান্ত ইনসুইং এবং উইকেট থেকে মুভমেন্ট আদায় করে নেওয়ার অনন্য দক্ষতা মারুফাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। জাতীয় দলে এসেই নারী ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচনায় তিনি। ২২ গজে তার বোলিং অ্যাকশন আর ঝড়ো গতি ব্যাটারদের কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। মারুফার ক্যারিশমাটিক বোলিংয়ে মুগ্ধ বিশ্ব। তাই তো গত ২১ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে ভারতের ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা গাইতে বাধ্য হন মারুফার জয়গান।
নীলফামারীর জেলা ক্রীড়া সংস্থার দীর্ঘ ৩৫ বছরের (সাবেক) সেক্রেটারি, জাতীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের (সাবেক) সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়লান আবেদিনের মুখেও মারুফার প্রশংসা। নিজ জেলার কৃতি ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনি বলেছেন, “তার পারফরম্যান্স আমাদের সবাইকে দারুণ অনুপ্রাণিত করেছে। মাঠে যেভাবে সে নিজেকে উপস্থাপন করছে, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরছে, তা সত্যিই অসাধারণ।”
“মারুফার ভেতরে যে প্রতিভা দেখেছি, তাতে আমি এটা নিশ্চিত, বাংলাদেশের জন্য সে অসাধারণ এক ক্রিকেটার হয়ে উঠবে। মারুফা আমাদের নীলফামারীর গর্ব, তার অ্যাকশন একদমই আলাদা। আগামী ৭ অক্টোবর গৌহাটিতে পরের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। মারুফা কেমন করে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি”, যোগ করেন তিনি।
Trending
- শিশু পার্কের কর্মচারী হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- বিপিসির দরপত্রে প্রভাবের অভিযোগ, স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র নিয়ে জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ
- ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ
- ভেঙে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা
- আইসিসিবিতে বসছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার
- ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্প সেবা পেলেন চার শতাধিক রোগী
- পদ্মায় আরও এক অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার
