স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর শিশু পার্কের অস্থায়ী কর্র্মচারী হাসান শেখ(৩৫) কে পূর্র্বশত্রুতার জের ধরে হত্যার দায়ে ৪ আসামী কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেকে কে ২০ হাজার টাকা অর্র্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
এছাড়া একই মামলার অপর ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীদেরকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: শরীফ উদ্দীন এই রায় দেন। রায় ঘোষনার সময় সাজাপ্রাপ্ত চার আসামীর মধ্যে তিন জন উপস্থিত ছিল। অপর পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে বিচারক। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামীকে পুলিশী পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলো শাহজাহান মাতুব্বর(৩৬), ফারুক শেখ(৩৫), চান্দু শেখ(২২) ও ফরিদা বেগম(৩০) । এদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছে। আসামীরা সকলেই জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম হাসান শেখ ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকুরীর পাশাপাশি কৃষি কাজ করতো। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে প্রতিবেশি শাহজাহান কাকা ডেকেছে বলে বাড়ী থেকে বের হয়। সারারাত বাড়িতে না ফেরায় সকাল থেকে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করে তার পরিবার। নিখোজের পর থেকে হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকাসহ বিষয়টি স্থানীয় থানায় জিডি করা হয়। নিখোজের ৪দিন পর ঝাউখোলা এলাকার আখক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি হাসানের মরদের উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, এই ঘটনার ৪/৫ মাস আগে তার ছেলে সাথে প্রতিবেশি কয়েক যুবকের একটি গন্ডগোল হয়। তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণমান্যদের মাধ্যমে শালিশী বৈঠকে হাসান শেখ কে মারধরে বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হয় তাদের। এই ক্ষোভ থেকেই সেদিন রাতে হাসান কে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়।
স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের কৌশলী শাহ মো: আজিজুর রহমান বিকু জানান, হাসান শেখ নৃশংস হত্যাকান্ড মামলার ঘটনায় দীর্র্ঘ শুনানী ও স্বাক্ষ্য প্রমান শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্র পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
