স্টাফ রিপোর্টার:
তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, / গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; (নিমন্ত্রণ)
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, / তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। (কবর)
ও বাবু সেলাম বারে বার,/ আমার নাম গয়া বাইদ্যা বাবু/ বাড়ি পদ্মা পার। (ও বাবু সেলাম বারে বার)।
এরকম অনেক জনপ্রিয় কবিতা, গল্প, নাটক আর গানের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরে যে কবি পেয়েছিলেন ‘পল্লী কবি’ উপাধি, সেই কবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্ম বার্ষিকী ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার তার জন্ম স্থান ফরিপুর শহরতলীর কুমার নদের পাড়ে অম্বিকাপুর পালিত হয়েছে।
দিনটি উপলক্ষে ফরিদপুর শহরতলী অম্বিকাপুরে কবির সমাধিস্থলে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন, রামানন্দ পাল, প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, প্রফেসর এম এ সামাদ, মফিজ ইমাম মিলন প্রমুখ।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, পল্লীকবি আমাদের প্রাণের কবি, কবির যে সৃষ্ট কর্ম, তার এই সৃষ্ট কর্মের মধ্যে সহজ সরল গ্রামীণ বাংলার যে সারল্য, কবিরের সারল্য কে যদি আমরা ধারণ করতে পারি, সমাজের মধ্যে এটা সঞ্চায়িত করতে পারলে, তাহলে দেশ ও সমাজ আরো অনেক সুন্দর হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী প্রজন্ম কবির সৃষ্টকর্মের মাধ্যমে কবিকে উপলব্ধি করুক।
১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কবির বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।
জসীম উদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে ফরিদপুর জিলা স্কুল) পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয় থেকে বি এ এবং এম এ শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সালে।
কবি জসীম উদ্দীন ১৯৩৯ সালে মমতাজ বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ৩ ছেলে ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু। পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।
