স্টাফ রিপোর্টার :
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাজার হাজার ইরানি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সমবেত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার ইরানিরা ইনকিলাব স্কয়ারে এসেছেন শোকার্তরা। তাদের বেশিরভাগই কালো পোশাক পরিহিত এবং অনেকেই কান্না করছিলেন। ‘যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হোক’, ‘ইসরায়েলে মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তারা অনেকেই ইরানের পতাকা ঘুরিয়ে ধরছিলেন এবং খামেনির ছবি প্রদর্শন করছিলেন।

এদিকে ঐতিহাসিক ইস্পাহান শহরেও হাজারো ইরানির সমবেত হওয়ার খবর মিলেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-তে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নাকশে-জাহান স্কয়ারে একটি বড় সমাবেশ দেখা গেছে।
এর বাইরে ইরানের বিভিন্ন শহরে ও সড়কে ইরানিদের শোক প্রকাশের খবর মিলেছে।
শনিবার তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর খামেনি মারা গেছেন বলে রোববার দেশটির তরফে জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে কাঁদতে কাঁদতে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রচার
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশনগুলো দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের একটি বিবৃতি পাঠ করে একযোগে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এ সময় একটি টেলিভিশনের সংবাদ পাঠককে কাঁদতে দেখা যায়।
সীমা অতিক্রম করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, কঠিন মূল্য দিতে হবে: ইরানের স্পিকার
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের ‘অশুভ অপরাধী’ আখ্যায়িত করেছেন এবং চলমান হামলার জন্য তাদের ‘ভয়াবহ প্রতিশোধের’ মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন।
গালিবাফ এই মন্তব্য করেছেন টেলিভিশনে সরাসরি ভাষণে। তিনিই দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা, যাকে শনিবার হামলা শুরুর পর ক্যামেরার সামনে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের রেড লাইন অতিক্রম করেছেন এবং এর মূল্য দিতে হবে। আমরা এমন ভয়াবহ প্রতিশোধ নেব যে, আপনিও অনুরোধ করতে বাধ্য হবেন।”

ইস্পাহানে শোকার্ত ইরানিদের সমাবেশ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাজার হাজার ইরানি ঐতিহাসিক ইস্পাহান শহরে সমবেত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-তে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নাকশে-জাহান স্কয়ারে একটি বড় সমাবেশ দেখা গেছে।
শনিবার তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর খামেনি মারা গেছেন বলে রোববার দেশটির তরফে জানানো হয়েছে।
ইরানে খামেনিকে হত্যার পর বাগদাদে বিক্ষোভ:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা শহরের ‘গ্রিন জোন’ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে। কঠোরভাবে সুরক্ষিত এই এলাকাতেই ইরাক সরকারের কার্যালয়, পার্লামেন্ট ও বিদেশি দূতাবাসগুলো অবস্থিত।

সেখানকার ভিডিও বিশ্লেষণ করে আলজাজিরা লিখেছে, বিক্ষোভকারীরা পতাকা নাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা সেখানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালাতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রিন জোনে প্রবেশপথের কাছে একটি গোলচত্বরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করারও চেষ্টা করছেন।– সূত্র বিডি নিউজ
