স্টাফ রিপোর্টার :
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী রানী স্থানীয় কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং এলাকার একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাক্ষেতের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শিশুটির পারিবারিক সম্পর্কের চাচা বিধান (১৯) নামে এক যুবককে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে। তবে তাকে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও, পরে আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনওর সরকারি গাড়িসহ একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে প্রশাসন জনরোষের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হলেও একপর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আসামিকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাটির সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
