হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, প্যারিস (ফ্রান্স):
ধরুন, অফিসে কাজের বিস্তর চাপ। অথচ মন বসছে না। কখন বেরোবেন সেই প্রতীক্ষা। এই অবস্থায় ঘড়ির কাটা যদি হাত দিয়ে একঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া যেতো তবে কেমন হতো? একেবারেই কাল্পনিক মনে হচ্ছে তাই না? আসলে তা নয়। ইউরোপে গ্রীষ্ম ও শীতে ঘড়ির কাটা ইচ্ছে করে আগপিছ করা হয়।
সেই নিয়ম মেনে ফ্রান্সে রোববার রাত থেকে শুরু হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন সময়। ওইদিন রাত দুটোয় ঘড়ির কাটা এগিয়ে দেওয়া হবে একঘণ্টা। অর্থাৎ দুটো বাজলেই হয়ে যাবে তিনটা। গ্রীষ্মে দিনের আলোর ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ের উদ্দেশে প্রতি বছর মার্চের শেষ রোববার রাতে এই পরিবর্তন করা হয়।
দিনের আলো দীর্ঘ হওয়ায় সন্ধ্যার পরও মানুষ বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ পায়। যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
গ্রীষ্মকালীন সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের শহরগুলোতে এক নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অফিস শেষে মানুষ পার্ক, ক্যাফে, নদীর পাড় কিংবা ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানে ভিড় জমায়। দীর্ঘ দিনের আলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি করে।
পর্যটন খাতের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সূর্যাস্ত দেরিতে হওয়ায় পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখতে পারেন। হাঁটাহাঁটি, সাইক্লিং, উন্মুক্ত আকাশের নিচে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুই এই সময়ে আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
তবে এই পরিবর্তনের কিছু প্রভাবও রয়েছে। হঠাৎ এক ঘণ্টা সময় এগিয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘুমের ছন্দে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কয়েকদিন সময় লাগে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। তবুও অধিকাংশ মানুষ এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই মেনে নেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ ফ্রান্সে বসবাসের ফলে নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। কীভাবে প্রাকৃতিক শক্তি ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়, তা দেখেছি কাছ থেকে। গ্রীষ্ম এবং শীতে সময় বদলে দেওয়ার বিষয়টি তার একটি।’
তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মকালীন সময়ের সূচনা ফ্রান্সে শুধু ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের ঘটনাই নয়; এটি এক নতুন জীবনধারার সূচনা। যেখানে দিনের দীর্ঘ আলো মানুষকে আরও প্রাণবন্ত, সামাজিক ও সক্রিয় করে তোলে।’
ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্কসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম জোনকে মেনে চলে। একঘণ্টা সময় পরিবর্তন করার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান হবে ৪ ঘণ্টা।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সাল থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে সময় পরিবর্তনের বিষয়টি শুরু হয়। তখনকার সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে। এ কারণে প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটাকে ১ ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, যাকে ‘সামার টাইম’ বলা হয়। আবার অক্টোবরের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটা ১ ঘণ্টা পিছিয়ে আবার মূল সময়ের ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়, যা ‘উইন্টার টাইম’ হিসাবে পরিচিত।
