স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপুল পরিমাণ মেয়াদত্তীর্ণ মেডিকেল সামগ্রী আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত মাস্ক ও পিপিই; যেগুলোর অধিকাংশ করোনা সময়ের। যা থেকে সৃষ্ট তীব্র ধোয়া ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল এলাকায়।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালের আঙিনায় ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সামগ্রীগুলো পোড়ানো হয়।

এগুলো পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে পুড়ানো হয়েছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
তবে তালিকাভূক্ত কি কি সামগ্রী রয়েছে, সেগুলো জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তারা।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসকরণ কমিটির সদস্য সচিব ওমর ফয়সালের সাথে কথা বলে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালে মেয়াদত্তীর্ণ সামগ্রী পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্টোররুমে জমে থাকা ব্যবহার অযোগ্য ও মেয়াদত্তীর্ণ এমএসআর লিনেন সামগ্রী কনডেমনেশন কমিটির মাধ্যমে তালিকা করা হয় এবং তালিকাটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে পাঠানো হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসকরণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, ১৬টি আইটেমের মোট ৩৯ হাজার ৫৭০টি সামগ্রী রয়েছে; যেগুলো তালিকাভূক্ত করে মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে পুড়িয়ে ধ্বংসকরণ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্র ও এমএসআর লিনেন সামগ্রীর মধ্যে কি কি রয়েছে সে বিষয়ে তালিকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ৯ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন থেকে আনুমানিক ২০-৩০ মিটার দূরের আঙিনায় আগুনে পুড়ানো হচ্ছে এসব সামগ্রী। যেখান থেকে সৃষ্ট তীব্র ধোয়া ও গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল এলাকাসহ আশপাশে এবং দুটি নারিকেল গাছসহ অন্তত ১০টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
এ সময় দেখা যায়, অসংখ্য কার্টুন ভর্তি পিপিই ও কেএন৯৫ মাস্ক রয়েছে। যেগুলো প্যাকেটজাত সম্পন্ন করা। পিপিইর প্যাকেটের ওপরে লেখা রয়েছে- প্রতিটি প্যাকেটে সাড়ে ১৩ কেজি ওজনের ৫০টি করে পিপিই রয়েছে। যেগুলো ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট চীনের ‘হেনান গোরী মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’ কোম্পানির নিকট থেকে আনা হয়েছে; যার মেয়াদ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে দুই বছর। পাশপাশি কেএন৯৫ মাস্কের কার্টুনে উল্লেখ রয়েছে- প্রতিটি কার্টুনে ৫০টি বক্স রয়েছে। যেগুলো কার্টুনসহ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ব্যবহার অযোগ্য বিছানা, চাদর, বালিশের কভার, পর্দাসহ নানান সামগ্রীও রয়েছে।
এ সময় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের একটি দলকে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়।
উপস্থিত থাকা ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নিছার হোসেনের কাছে কি কি সামগ্রী রয়েছে জানতে চাইলে তিনি ‘জানেন না’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি চিঠির মাধ্যমে আমাদের অবগত করা হয়েছে এবং আগুনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা রয়েছি।”
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক মো. হুমায়ন কবির বলেন, “কনডেমনেশন কমিটির সদস্যরা এসে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে প্রতিটি সামগ্রীর তালিকা করেন। তাদের নির্ধারিত সামগ্রীগুলো তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এই ধ্বংসকরণের সময়ে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ কমিটির সকল প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।”
