স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর জেলার সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলামের আয় গত সাত বছরে কমেছে। তবে সাত বছরের ব্যবধানে তার ঘোষিত বার্ষিক আয় কমলেও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় শামা ওবায়েদ ইসলামের মোট বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা। তবে চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাখিল করা সর্বশেষ হলফনামায় তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। ফলে সাত বছরের ব্যবধানে তার আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে শামা ওবায়েদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল দেড় কোটির কিছু বেশি। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। সাত বছরে অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে দুই কোটিরও বেশি টাকা। অপরদিকে স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে সামান্য হ্রাস দেখা গেলেও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির বিবরণে আগের তুলনায় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ ও বর্তমান (২০২৫/২০২৮) সালের দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তার আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছেÑএপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকুরির সম্মানী বাবদ ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা বাবদ ৯৬ হাজার টাকা।
নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শামা ওবায়েদ ইসলাম একসময় একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হলফনামায় তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এ্যলিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হলফনামা অনুযায়ী শামা ওবায়েদ ইসলামের বয়স ৫২ বছর ৭ মাস ১৫ দিন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি বিজ্ঞানে স্নাতক (কম্পিউটার সায়েন্স)। তার নামে মোট ১৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। ২০২৫ সালে আটটি মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং আটটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পান। একটি হত্যা মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
শামা ওবায়েদের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে, ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, শেয়ার ও বিনিয়োগ, একটি জিপ গাড়ি এবং ৫০ তোলা সোনা (সোনার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি)।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষি জমির কোনো মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ঢাকার বনানীতে তার মালিকানাধীন ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
হলফনামায় তার স্বামী মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম ও পুত্র আরভীন ওবায়েদ ইসলামের আয় ও সম্পদের বিবরণও উল্লেখ করা হয়েছে। স্বামীর বার্ষিক আয় ৮৮ লাখ ৮৬ হাজার ৪১৮ টাকা এবং তার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। ছেলের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ১ হাজার ৯৬২ টাকা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাই শেষে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এ আসনের ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রের ৭৩৭টি কক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩২ জন।
