স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর আইরিন আক্তার নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, এঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হবে।
শিশু আইরিন আক্তার ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা আদর্শ গ্রামের বাকা বিশ্বাসের মেয়ে। সে একই এলাকার বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। ৫ বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল আইরিন।
মেয়ের এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মা তাহমিনা বেগম। কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। জ্ঞান ফিরে এলেই বলছেন আমার মেয়েকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও, তার আহাজারীতে উপস্থিত সকলের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেনা। কোনো শান্তনাতেই থামছে না তার আহাজারী। পুরো এলাকায় বইছে শোকের মাতম।
জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় শিশু আইরিন আক্তার। অনেক রাত হলেও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে শিশুটির পিতা।
নিখোঁজের ৬ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কাফুরা এলাকার রেললাইনের পাশে কলাবাগানের মধ্যে একটি বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান শিশু আইরিন আক্তারের মরদেহ পরে রয়েছে। পড়নের কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা।
শিশুটির মা তাহমিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে যারা এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্ঠান্তমূলক বিচারের দাবী জানাই। আমার বুক যারা খালি করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানাই। আর কোনো মায়ের বুক যেন আমার মতো খালি না হয়।
শিশুটির চাচা আব্দুল আলীম জানান, গত ২৪ এপ্রিল আইরিন নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরদিন ২৫ এপ্রিল তার পিতা বাকা বিশ্বাস কোতোয়ালী থানার সাধারণ ডায়েরি করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় সোনা মিয়া ও দুলাল মোল্লা পঁচা গন্ধ পায়। এগিয়ে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম বলেন, গত ছয় দিন যাবৎ বিভিন্ন জায়গায় আমরা খুঁজেও আইরিনকে পাইনি। আজ সকালে কলাবাগানে কলা গাছ কাটতে গিয়ে স্থানীয়রা মরদেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় পরে থাকতে দেখে খবর দিলে গিয়ে দেখি আফরিনের মরদেহ পরে রয়েছে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, যে অবস্থায় মরদেহটি পরে থাকতে দেখেছি, আমরা ধারনা করছি শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাই পুলিশের কাছে। এই ঘটনার পর থেকে আমাদের মেয়েদের নিয়ে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: আজমীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কিনা তা রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে। খুব দ্রুতই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারবো বলে আশা করছি।
