স্টাফ রিপোর্টার: একটা উদ্ভিদ আছে, যে একদিনে প্রায় এক ফুট লম্বা হয়ে যেতে পারে, যেটা আবার খাবারও, আবার ঘরবাড়ির দেয়ালও! প্রকৃতির সেই বিস্ময়কর উপহারই হলো বাঁশ। আজ ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব বাঁশ দিবস, এই উপলক্ষে জেনে নিই বাঁশ নিয়ে কিছু বিচিত্র তথ্য— ১. পৃথিবীর দ্রুততম উদ্ভিদ সমুদ্রের বিশাল কেল্প শৈবাল বাদ দিলে, বাঁশই পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা স্থলজ উদ্ভিদ। কোনো কোনো প্রজাতির বাঁশ দিনে গড়ে প্রায় ৯১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। অর্থাৎ, সকালে যে বাঁশ দেখলেন, বিকেল নাগাদ সেটি চোখে পড়ার মতো লম্বা হয়ে যেতে পারে! ২. গাছ নয়, বিশাল ঘাস! আমরা সবাই বাঁশকে গাছ ভাবি। আসলে বাঁশ কোনো গাছই নয়, বরং ঘাস পরিবারের সদস্য। শেকড়ও ঘাসের মতো অগভীর, তবে কাণ্ড শক্ত কাঠের মতো। তাই বাঁশকে বলা হয় ‘উডি গ্রাস’। এই আশ্চর্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাঁশ প্রকৃতির এক অভিনব সৃষ্টি। ৩. প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশনার গ্রীষ্মের দাবদাহে বাঁশের ঝাড়ের ভেতরে ঢুকলেই হালকা ঠান্ডা বাতাস টের পাওয়া যায়। গবেষণা বলছে, বাঁশ আশেপাশের তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ বাঁশবন যেন প্রকৃতির বানানো এক প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশনার। ৪. একশো বছরে একবার ফুল! বাঁশের সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো এর ফুল ফোটার বিরলতা। কিছু প্রজাতির বাঁশ প্রায় ১০০ বছর বা তারও বেশি সময় পর ফুল ফোটায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবীর যেখানেই একই প্রজাতির বাঁশ থাকুক না কেন, একই সময়ে তারা ফুল ফোটায় এবং বীজ দেয়। প্রকৃতির এ এক দুর্লভ মিলনমেলা। ৫. খাবার হিসেবেও জনপ্রিয় শুধু কাঠ নয়, বাঁশ মানুষের খাবার হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়। নরম কচি শিপা বা অঙ্কুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এশিয়ার বহু দেশে—বিশেষ করে চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে—এই বাঁশশিপা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি, স্যুপ বা স্টার ফ্রাই। আমাদের দেশেও বাঁশ খাবার সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঁশ কোড়ল (বাঁশের কচি অঙ্কুর) ভীষণ জনপ্রিয় খাবার। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রান্নায় এটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ভর্তা, ঝোল কিংবা ভাজি—যেভাবেই রান্না হোক, বাঁশ কোড়ল হয়ে ওঠে অনন্য স্বাদের খাবার। ৬. পান্ডা আর হাতির প্রিয় খাবার পান্ডা মানেই বাঁশ। তাদের খাদ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই বাঁশ—পাতা, কাণ্ড আর নরম শিপা। একেকটা পান্ডা দিনে ১২ থেকে ৩৮ কেজি বাঁশ খেয়ে ফেলে! শুধু পান্ডাই নয়, হাতিরও প্রিয় খাবার বাঁশ। আফ্রিকা আর এশিয়ার বনে হাতিদের প্রায়ই দেখা যায় বাঁশ চিবোতে। এশিয়ান হাতি একসঙ্গে প্রায় ১৫০ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেয়ে নিতে পারে। প্রকৃতির এই বিশাল প্রাণীরা বাঁশ ছাড়া যেন বাঁচতেই পারে না। ৭. মনের টনিক…