স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও এফ বিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ গণসংযোগ কালে স্থানীয় যুবদল বিক্ষোভ করে ও গাড়ি বহরে হামলা চালায়। এ হামলায় অন্তত ১৫ বহর বিশিষ্ট এ কে আজাদের গাড়ি বহরের মধ্যে দুটি গাড়ির কাচ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
তবে পুলিশের হস্তক্ষেপের কারনে বড় কোন ঘটনা ঘটা ছাড়াই এ কে আজাদ তার বহর নিয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
গণ সংযোগের উদ্দেশ্যে আজ রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণ নগর ইউনিয়নের পমানন্দপুর বাজার এলাকায়।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি মশাল মিছিল বের করে দলটির নেতা কর্মীরা। তারা এই সময় শিল্পপতি এ.কে আজাদকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করেন বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বিকেল ৪টার দিকে এ কে আজাদ পরমানন্দপুর বাজারে যান। প্রথমে তিনি পরমানন্দপুর বাজার সংলগ্ন জামে মসজিতে আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাজার এলাকায় এসে গণ সংযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় এ সময় সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমান ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি নান্নু মোল্লার নেতেৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
মিছিলকারীরা এ কে আজাদকে “আওয়ামী লীগের দোসর”’ আখ্যায়িত করে শ্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মিছিলকারীরা ‘একশন একশন ডাইরেক্ট একশন’ শ্লোগান দিয়ে একে আজাদকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে। এসময় মিছিলকারীদের নায়াবা ইউসুফের পক্ষে শ্লোগান দিতে দেখা যায় । ওই সময় এ কে আজাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী এ কে আজাদকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যুবদলের নেতা কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে পুলিশের কথায় এ কে আজাদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পরমানন্দপুর মাঠে অবস্থান নেওয়া এ কে আজাদের গাড়ি বহর পুলিশ প্রহরায় একে একে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে শেষের দুটি গাড়িতে আখ দিয়ে আঘাত করে কাচ ভাংচুর করে যুবদলের নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার ইউনিয়নে যুবদলের কোন কমিটি নেই। পরমানন্দপুরে আমার কোন লোক এ ঘটনা ঘটায়নি।
ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদের বলেন, রাজনীতির এ সহিংসতার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকও এ জাতীয় আচরণ করেন নি। নায়াব ইউসুফের কাছ থেকে এ জাতীয় আচরণ এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেনি। এ সব ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে ঘণিভুত করবে।
এ কে আজাদ বলেন, তিনি এ ঘটনার জন্য মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নায়ব ইউসুফ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমি এই সবের মধ্যে নাই। আমি আমার নেতাকর্মীদের দৃঢ়তার সাথে বলেছি, এ জাতীয় কোন কাজ না করতে। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি ও পুলিশ সুপারকেও বলেছি এ ব্যাপারে নজর রাখতে।
তিনি বলেন, এ কে আজাদ অনেক দিন ধরেই মাঠে আছেন, কখনও তো কোন সমস্যা হয়নি। উনি যদি জনপ্রতিনিধি হবেন তাহলে গণ সংযোগ করতে উনি ভয় পাবেন কেন। কেন তাকে পুলিশ নিয়ে যেতে হবে। আমি তো সব জায়গায় চষে বেড়াচ্ছি আমার তো পুলিশ প্রটেকশনের দরকার হয় না।
নায়াব ইউসুফ বলেন, এ কে আজাদ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন তার কোন ভিত্তি নেই, তিনি উদ্দেশ্যমূলক ভাবে এসব কথা বলছেন যাতে আমার ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, তার বহরের সাথে আওয়ামী লীগ পদধারী নেতারা থাকেন। এদের দেখে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, পরমানন্দপুরে আজ ছিল হাটের দিন। সেখানে এ কে আজাদ গণ সংযোগ করতে গিয়েছিলেন। অপরদিকে যুবদলের লোকজনও গণসংযোগ করছিল। এক সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থায় চলে এলে এক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ওসি বলেন, এসময় পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ কে আজাদের গাড়ি বহর নির্বিঘ্নে পার করিয়ে দেয়।
ছাত্রদলের মশাল মিছিল
এদিকে আজ সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে । জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হোসেনের নেতৃত্বে এ মিছিলটি বের হয়ে ব্রহ্ম সমাজ সড়ক দিয়ে জেনারেল হাসপাতালের মোড় হয়ে মুজিব সড়ক দিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল কারীরা, ‘আওয়ামী লীগের দালালরা হুশিয়ার সামধান’, ‘ফ্যাস্টিদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে এক সাথে’, ‘শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা এক হও লড়াই করো’-প্রভৃতি শ্লোগান দেয়।
