স্টাফ রিপোর্টার:
বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পদে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে।
এতদিন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন নিয়ে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের সরাসরি শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।
এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য থাকা প্রায় ৭৮ হাজার পদে নতুন পদ্ধতিতে সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ।
আসছে মে মাসের শুরুতেই এসব পদে নিয়োগ ও নিবন্ধনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।
নতুন পদ্ধতিতে যেভাবে নিয়োগ সুপারিশ
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জারি করা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা-২০২৫ এর আলোকে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান।
মঙ্গলবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ক্ষেত্রে আমরা প্রার্থীদের নিবন্ধন পরীক্ষা নেব, পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সরাসরি প্রার্থীকে একটি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।”
আগের বিধিমালা অনুযায়ী শূন্য পদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ প্রার্থীকে নিবন্ধিত করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শূন্য পদের সমান সংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হবে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।
২০০ নম্বরের লিখিত ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা
আগে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শুধু লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের নিবন্ধিত ও নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন পদ্ধতিতে নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ২০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন তাদের ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
“মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আমরা নিয়োগ সুপারিশ করব, একইসঙ্গে নিবন্ধন সনদও দেব। উত্তীর্ণ হতে মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় আলাদাভাবে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।”
৭৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি মে মাসে
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলছেন, এবারই প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিটি নবম এনটিআরসিএ (শিক্ষক) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নামে পরিচিত হবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদ পাওয়া গেছে।
এখন এসব শূন্য পদ যাচাই-বাছাই শেষে বিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
মে মাসের শুরুতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আশা প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আশা করছি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষ ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা যাবে।”
বর্তমানে দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯টি। যেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএ অনলাইনে শিক্ষকদের শূন্য পদের চাহিদা আহ্বান করে, যা ই-রিকুইজিশন নামে পরিচিত।
কয়েকদফা মেয়াদ বাড়ানোর পর তা শেষ হয় গত ১৫ এপ্রিল। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমও (ই-রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন হয়েছে।
