মাহবুবুল হাসান পিংকু:
মানুষের জীবন অনেক বৈচিত্র্যময়। কখনো মানুষ সুখের গড্ডালিকায় ভাসে আবার সেই মানুষই তার কৃতকর্মের ফল হিসাবে নরকের জীবনকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হয় । এই দেশ এই সমাজ আমাদেরকে কতই না সুখ দু:খের বাস্তব গল্পের দর্শক বানিয়ে তার চিরাচরিত নিয়মের বেড়াজালে আটকে রেখেছে তা ভাবলেই চোখের সামনে টাইমলাইন এসে ভর করে । এই তো মনে হয় সেদিনের কথা চোখের পলকে কম করে হলেও ২০ বছর পার হয়ে গেলো ২০০৬ সালে মঈন ফখরুদ্দিন গং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হঠাৎ উদয় হয়েই মাইনাস টু ফর্মুলা প্রনয়নে জান প্রান দিয়ে চেস্টা করে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে বন্দি করে কারাগারে অন্তরীণ করেই ক্ষান্ত হয় নাই দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের উপরে চড়াও হয়ে তার দুই সন্তান জনাব তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কেও কারাগারে আটকিয়ে তাদের উপরে শারীরিক এবং মানুষিক ভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে তারেক রহমানের মাজার হাড় ভেঙ্গে এবং আরাফাত রহমান কোকোকে শারীরিক নির্যাতন সহ মানুষিক যন্ত্রনা দিয়ে দেশান্তরি করে পাশাপাশি বিএনপির একটি অংশকে সংস্কারবাদী বানিয়ে এক বিরাট ষড়যন্ত্রের আধা সফল নাটক মঞ্চস্থ করে হাসিনাকে ইতিহাসের এক মহা স্বৈরাচার হবার পথে ঠেলে দিয়ে দেশটাকে বিদেশিদের খেলার পুতুল বানিয়ে লুটপাটের এক বিরাট স্বর্গরাজ্য পরিনত করেছিলো।
দীর্ঘ ১৭ বছর এই দেশ ছিলো সরকার বিরোধী জনতার উপরে চরম জুলুম নির্যাতনের ইতিহাস পুনরায় যার মমধ্যমনি ছিলো মজলুমের খেতাবপ্রাপ্ত বেগম খালেদাজিয়া । স্বৈরাচারের কবলে নি:ষ্পেষিত বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র রক্ষায় দুটি সন্তানের দেশান্তরীত্ব মেনে খালেদা জিয়া যখন দুচোখে অন্ধকার দেখছিলেন তখন বিদেশে একটি সন্তানের মৃত্যুর খবর তাকে পাথরের চোখ উপহার দেয় যে চোখে সন্তান হারানোর বেদনায় জল আসাটাও অপরাধ বলে গন্য হয়েছিলো চারিদিকে তার আদর্শিক অগুনিত সন্তানদের স্বৈরাচারের হাতে ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং অকথ্য নির্যাতন সহ্যকরে বোবা কান্নার আকাশ ভারী করা আহাজারি খালেদা জিয়াকেও আরাফাত রহমান কোকোর মৃত মুখ পাথেরের চোখ দিয়ে দেখতে হয়েছিলো । দেশপ্রেমে অন্ধ এক মজলুম জননী শুধু দেশের গনতন্ত্র রক্ষায় পৃথিবীর সব কষ্টকে সয়ে নিয়েছিলেন পৃথিবীর মানচিত্রের ছোট্টো এই বদ্বীপের স্বাধীনতা এবং গনতন্ত্র রক্ষায়।
স্বামী হারা সন্তান হারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এক মজলুম মহীয়সী শেষ পর্যন্ত বিনা অপরাধে সাড়ে ৬ টি বছর স্বৈরশাসকের কারাগারে কাটিয়েছেন । দীর্ঘ ১৬ বছর লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের আন্দোলন এবং আত্মত্যাগে অর্জিত একটি শক্ত ভীতের উপরে দাড়িয়ে ২০২৪ এর ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গন আন্দোলন সফল হলে স্বৈরাচার জান নিয়ে পালিয়ে বাচে আর দেশ ফিরে পায় তার হারানো কাংখিত গনতন্ত্র এবং ভোটের অধিকার।
মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীটাকে মানুষের যাওয়া আসার এক সুখ দু:খের ডালিতে সাজিয়েছেন যার সার কথা “জন্মিলে মরিতে হবে” খালেদা জিয়াও এই নিয়ম কে আলিংগন করেছেন তবে স্বৈরাচার তাকে কারাগারে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে ( শ্লো পয়জনিং করে ) তার শরীরের সকল অর্গান নষ্ট করে অচল করে দেয় । দেশের জন্যে ত্যাগের এই মহিমায় উদ্ভাসিত বেগম খালেদাজিয়া এদেশের সকল জাতি ধর্মের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে ইতিহাসের অমর হয়ে গেছেন। আজ যে ভালোবাসার উপরে ভর করে শত ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তার সন্তান
জনগনের ভোটে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ! যেনো স্বপ্নের মতই একের পরে এক সব ঘটে চলেছে। সদ্য শপথ নেওয়া আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ১৭ টি বছর সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে বসে একটা মুহুর্তও বাংলাদেশ বিস্মৃত হন নাই রাত দিন তিনি একটি কক্ষে ছোট্টো ল্যাপটপের স্কিনকে জিবনের সাথী করে এক মহান সাহধনায় উত্তীর্ণ হয়ে গোটা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের সৈনিকদের এক সূতায় বেধে রেখেছিলেন যা ছিলো অভূতপূর্ব যেখানে দীর্ঘ ১৭ বছরে স্বৈরশাসকের চরম নির্যাতন নিপিড়ন সহ্যকরে একজন নেতা কর্মীও দল ছেড়ে যায় নাই।
বিংশ শতাব্দীতে যা কিনা অসম্ভবকে সম্ভব করার এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আরও বহুযুগ বহুকাল ধরে ।
ক্ষমতায় এসেই তিনি দেশ পুনর্গঠনে পুরোনো বস্তা পচা যতসব নিয়ম কানুন পায়ে দলিয়ে নিজস্ব এক প্লান বাস্তবায়নের পথে রওয়ানা হয়েছেন যা দেখে রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ যেনো যার পর নাই চমকে উঠেছে এ যেনো মহাসাগরে হঠাত সৃষ্ট বিশাল বিশাল আশান্ত ঊর্মিমালা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পেতে রাখা ষড়যন্ত্রের বালির বাধ ছিন্ন ভিন্ন করে সকল জঞ্জাল আবর্জনা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিবে।
এসব দেখে শত্রুপক্ষ এখন দিকবিদিক জ্ঞান হারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদেশের মানুষ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী অর্ধ শতাব্দীতে শুধু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই দেশকে বার বার ব্যার্থ হতে দেখেছে। দিকভ্রান্ত এ জাতি আজ যখন দেখছে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় যাকে বসিয়েছে সেই মানুষটি প্রচলিত প্রথা ভেঙ্গে চূরে চূরমার করে রাস্তা দিয়ে তাদের মত করেই একসাথে একাকার হয়ে পথ চলছে তখন বিস্ময়ের ঘোর যেনো তাদের কাটছেই না ভাবছে এ কি সত্যি সম্ভব নাকি স্বপ্ন দেখছে তারা !
এদেশের মানুষ যাকে ভালোবেসে যার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সন্মুখ সমরে যার নেতৃত্বে যুদ্ধ করে এদেশের পরাধীন মাটিকে স্বাধীন করেছিলো যার সততায় মুগ্ধ হয়ে যার আদর্শকে বুকে আগলে রেখে মানুষ এই দেশের জন্যে জীবন বাজি রেখে দীর্ঘ পথ চলেছে ক্ষনজন্মা সেই মহান নেতা স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেনো কল্পনায় ফিরে এসেছে দেশটাকে গড়ে দেবার জন্যে।
সত্যি কি আছে তার মনে? সে যখন নিরাপত্তা বেষ্টনীকে পায়ে দলিয়ে সাধারনের সাথে একাকার হয়ে দেশ গড়তে মাটিতে পা রেখেছেন তখন আমার ভয় হয় তিনি পারবেন তো ? তিনি তো পিতা মাতা ভাই বোন হীন একজন এতিম যার এই জগতে আপন বলতে নিজের একটা মেয়ে আর অসময়ে চলে যাওয়া সহোদর ভাইয়ের একটা মেয়ে আর দুই ভাইয়ের দুই ঘরনি এ ছাড়া যে আর কেউ নাই। তবে তিনি আজ যাদেরকে বিশ্বাস করে দেশ চালাতে পুনরায় সুযোগ করে দিয়ে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা দিয়েছেন তাদের অনেকেই চিনহিত ১/১১ এর মাইনাস টু ফর্মুলার কুশিলব যারা দেশ নেত্রীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্রের সাথে প্রত্যক্ষ জড়িত ছিলেন যারা তার নিজের মাজার হাড় ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যারা দেশনেত্রী বেগম খালেদাজিয়ার ভালবাসায় সিক্ত হয়ে তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হয়েও দিনশেষে মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলো তাদেরকেই কেনো আবার তিনি বিশ্বাস করলেন ! আজ চারিদিকে এক নি:শব্দ হাহাকার যেনো আকাশে বাতাসে করুন বেহাগ রাগ বেজে চলেছে। দীর্ঘ ২০ বছর যারা দেশ নেত্রীর নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবলে হারিয়ে ফেলা গনতন্ত্র ফিরে পাওয়ার যুদ্ধে জীবন কে বাজী রেখে শত নির্যাতন সহ্য করে শহীদ জিয়ার আদর্শের জাতীয়তাবাদের ঝান্ডাকে উড্ডীন রেখেছিলো আজ তারা কেনো মূল্যহীন ? দেশটাকে গড়ে দেবার যে সাধনায় আজ দেশের মানুষের ভালোবাসায় শিক্ত বেগম খালেদাজিয়ার নাড়ি ছেড়া ধন জনাব তারেক রহমান পারবেন তো ১/১১ এর গনধকৃত চিনহিত কিছু মীরজাফরের বংশের সদস্যদের নিয়ে দেশটাকে বিনির্মাণ করতে ?
