হাবিবুল্লাহ ফাহাদ :
২০১৪ সালের কথা। অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট সলিমুল্লাহ খানের সাক্ষাৎকার নিতে হবে। ফোনে সময় নিয়ে গেলাম ধানমন্ডির ইউল্যাব ক্যাম্পাসে। দেখা হতে বললেন, ‘টাকা এনেছেন?’ বুঝতে না পেরে বললাম, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎকার বিষয়ে কথা হয়েছিল।
‘সেই জন্যই তো টাকার কথা বলছি। সাক্ষাৎকার নেবেন, সম্মানী দেবেন না?’ তখন তিনি সম্ভবত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা দেখছেন।

‘এই যে পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখছি এ জন্য আমি সম্মানী পাই। এই কাজ বন্ধ করে আপনাকে বিনামূল্যে সাক্ষাৎকার দেওয়া কি সমীচীন হবে?’ খাতা থেকে মাথা না তুলেই বলে গেলেন।
বললাম, আপনি তো ফোনে বলেননি।
‘আমি বক্তৃতা করে এবং লিখে সম্মানী পাই। আপনি তো পত্রিকায় ছাপাবেন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাহলে আমায় সম্মানী দেবেন না?’ এবার মুখ তুললেন।
‘তাহলে আমি টাকা নিয়ে আবার আসি। কত দিতে হবে যদি বলতেন?’ জানতে চাইলে বললেন, ‘এক ঘণ্টার জন্য ১০ হাজার দিতে হবে। পারবেন?’
‘অফিসে যোগাযোগ করে জানাচ্ছি তবে।’ বলে তার ঘর থেকে বের হয়ে মুঠোফোনে অফিসে কথা বললাম। ফিরে এসে জানালাম, ‘অফিস সম্মতি দিয়েছে। আমি টাকা নিয়ে এখনি আসছি।’ বলে ফের বের হতে যাবো, এই মুহূর্তে বললেন, ‘অফিস কোথায়?’
‘ইস্কাটন গার্ডেনে।’
‘বসুন দেখি।’ বলে আবারও নিবিষ্ট মনে খাতা দেখতে লাগলেন। ক্ষাণিক পর বললেন, ‘যেতে আসতে কতক্ষণ লাগবে?’
‘ঘণ্টা দেড়েক লাগতে পারে।’
‘তাহলে তো আজ আর আমায় পাবেন না। আমি ক্লাসে ঢুকে যাবো।’
‘কিন্তু সাক্ষাৎকারটি যে আজই নিতে হবে। কাল পত্রিকা প্রেসে যাবে।’ সানুনয়ে বললাম।
খাতাপত্র গুছিয়ে রেখে আমার দিকে চেয়ার ঘুরিয়ে বসলেন। ‘প্রশ্ন এনেছেন?’ বললাম, প্রশ্ন লিখিত নেই। আপনি বললে, শুরু করব।
তারপর প্রায় দেড় ঘণ্টা প্রশ্নের বিপরীতে কথা বললেন। আসার সময় বললেন, পত্রিকা ছাপা হলে কপি পাঠাবেন। যা বলেছি কতটুকু লিখলেন দেখবো।
ছাপা পত্রিকাসহ দেখা করতে গেলাম পরে। পত্রিকা নেড়েচেড়ে দেখে প্রশংসা করলেন। এক পর্যায়ে সম্মানির প্রসঙ্গ তুলতে বললেন, নতুন পত্রিকা। তাই এবার সম্মানি মওকুফ করলাম। পরেরবার মনে করে আনবেন।- লেখক: হাবিবুল্লা ফাহাদ, সাংবাদিক, কথা সাহিত্যিক ও গল্পকার। ……প্যারিস// ২৬/০৬/২৬
