গোয়ালন্দ:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখায় পরিদর্শক (ক্রাইম) হিসেবে বদলি করা হয়।
একই আদেশে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবেও বদলি করা হয়েছে।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিয়মিত বদলির ধারাবাহিকতায় গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখায় পরিদর্শক (ক্রাইম) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এবং বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ আগস্ট) জুম্মার নামাজের পর ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের দরবারে আগুন দেয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পুলিশসহ অর্ধশত মানুষ আহত হয়। হামলায় নিহত হয় নুরাল পাগলের ভক্ত রাসেল মোল্লা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপর, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। পরে নুরাল পাগলের মরদেহটি কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় শুক্রবার রাতেই অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নুরাল পাগলের দরবারে হামলায় ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহতের ঘটনায় গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তার বাবা আজাদ মোল্লা। মামলায় হত্যাসহ অগ্নিসংযোগ, মরদেহ পোড়ানো, ক্ষতিসাধন, চুরি ও জখমের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
