স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে জেলা যুবদলের সহ সভাপতি মাসুদুর রহমানের অনুসারিদের বিরুদ্ধে শহরের মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে অন্তত ১৬টি মাহেন্দ্রর কাচ ভাংচুর করে। হামলায় ১০ জন মাহেন্দ্র শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এরা হলেন, রাইফুল আলম, মামুন মন্ডল, সলেমান শেখ ও মোতালেব মল্লিক।
এলাকাবাসী ও মাহেন্দ্র চালক সুত্রে জানা গেছে, শহরের হাজরাতলার মোড় এলাকায় সালথাগামী মাহেন্দ্রর স্ট্যান্ড অপরদিকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে কানাইপুরগামী মাহেন্দ্রের স্ট্যান্ড অবস্থিত। সালথার গাড়ি কানাইপুর স্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় সেখানে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না। তবে আজ সড়কে যানজট থাকায় সালথার একটি মােেহন্দ্র কানাইপুর স্ট্যান্ড এলাকায় আটক পড়লে ওই মাহেন্দ্রর চালককে মারধোর করে কানাইপুর স্ট্যান্ডে আটকে রাখে। এখন শোনা মাত্র শাহীন হাওলাদারসহ ২৫-৩০ জন বহিরাগত ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে গিয়ে ওই স্ট্যান্ডে অবস্থানরত শ্রমিকদেও নির্বিচারে পিটিয়ে আহত করে ও গাড়িগুলি ভেঙ্গে দেয়।
মাহেন্দ্র শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, জেলা যুবদলের সহ সভাপতি মাসুদুর রহমানের ক্যাডার শাহীন হাওলাদারনন নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শাহীন হাওলাদারসহ বেশকিছু যুবক কয়েকমাস ধরে ভাঙ্গা রাস্তারে মোড়ে অবস্থিত মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এসময় তারা স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত প্রতিটি মাহেন্দ্রর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। গত কয়েকদিন ধরে মাহেন্দ্র চালকেরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল যুবদল নেতার অনুসারী শাহীন হাওলাদার ও তার লোকজন।
মাহেন্দ্র চালক লিয়াকত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুবদল নেতা মাসুদুর রহমান ও শাহীন হাওলাদার মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দখল নিতে চেষ্টা চালায়। স্ট্যান্ড দখল নিতে না পারলেও তারা জোরপূর্বক মাহেন্দ্র প্রতি ৫০/১০০ করে টাকা নিতো। শ্রমিকরা চাঁদা দিতে রাজী হচ্ছিল না। এজন্যই পরিকল্পিত ভাবে তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
মাহেন্দ্র চালক রানা সরদার বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে বেশ কিছু ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে হামলা চালায়। এসময় তারা নির্বিচারে মাহেন্দ্র গুলো ভাংচুর করতে থাকে। এসময় তাদের বাঁধা দিলে আমাদের ১০ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
মাহেন্দ্র চালক মো. মোতালেব বলেন, ‘এ সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিচার চাই’।
এ ব্যাপাওে শাহীন হাওলাদারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কবে কথা হয়েছে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমানের সাথে।
মাসুদুর রহমান বলেন, আমি শ্রমিক রাজনীতি করিনা। মাহেন্দ্র শ্রমিকদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। এ নিয়ে তাকে জড়ানো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাজ। শাহীন তার ক্যাডার নন বলে দাবি করে তিনি বলেন, আগামীতে পৌরসভার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এজন্য তার দলের একটি অংশ তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।
তবে জেলা মাহেন্দ্র শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, আমরা নাকি ফ্যাসিবাদেও দোসর একথা বলে আমাদের স্ট্যান্ড দখল করার চেষ্টা করছে যুবদল নেতা মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারী শাহীন হাওলাদারগং। আজকের হামলা সে পরিকল্পনারই অংশ।
জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যদি এমন ঘটনা কেউ ঘটিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি।
