স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সর্বশেষ ব্যাচকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই তরুণ স্কলারদের ভারতে বাংলাদেশ ও ভারতের রাষ্ট্রদূত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাইকমিশনার তরুণদের ভারতে পড়াশোনার এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শুধু নিজ নিজ ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের জন্যই নয়, বরং ভারতকে অন্বেষণ করতে, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
সম্মানজনক আইসিসিআর বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিদায় জানাতে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজিত ‘বিদায়’ অনুষ্ঠানে ত্রিবেদী এই বক্তব্য রাখেন হাই কমিশন প্রাঙ্গণে।
এই অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ১২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, যারা শীঘ্রই ভারতের কিছু সেরা প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে চারুকলা এবং ফার্মেসি থেকে সঙ্গীত পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল কোর্স করার জন্য ভারতে যাচ্ছেন।
এই বছর, সারা বাংলাদেশ থেকে ৫৪১ জন শিক্ষার্থীকে আইসিসিআর বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; যার মধ্যে ৫০০ জন শিক্ষার্থী STEM এবং নন-STEM উভয় শাখায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল কোর্স করার জন্য মর্যাদাপূর্ণ সুবর্ণ জয়ন্তী বৃত্তি পেয়েছে।
৩৮ জন শিক্ষার্থী ভারতে নৃত্য, সঙ্গীত এবং সংস্কৃতি সম্পর্কিত কোর্স করার জন্য লতা মঙ্গেশকর নৃত্য ও সঙ্গীত বৃত্তি পেয়েছে।
এছাড়াও তিনজন শিক্ষার্থীকে আইসিসিআর-এর কোয়াড (QUAD) বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের ভারতে স্নাতক পর্যায়ের STEM কোর্স করার সুযোগ করে দেবে। এই বছর আইসিসিআর বৃত্তির জন্য সারা বাংলাদেশ থেকে ৭৭০০-এরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন ও অন্যান্য সহকারী হাইকমিশন কর্তৃক পরিচালিত একটি দক্ষতা পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের পর ৫৪১ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় কমিশনের কার্যালয়সমূহ।
এদিকে, বৃত্তিপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের হাই কমিশনার স্মরণ করিয়ে দেন যে, আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ৬% আইসিসিআর বৃত্তি পেতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরও বলেন যে, ভারত এই বৃত্তিপ্রাপ্তদের সাদরে গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করছে এবং ভারতে পড়াশোনা করা ভারতের বৈচিত্র্য উপভোগ করার এক চমৎকার সুযোগ দেবে। তিনি এই মেধাবীদের লালন-পালন করার জন্য এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতের উপর আস্থা রাখার জন্য বৃত্তিপ্রাপ্তদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান।
আইসিসিআর বৃত্তি হলো ভারত সরকারের একটি প্রধান কর্মসূচি, যার মাধ্যমে মেধাবী বাংলাদেশী নাগরিকরা ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানবিক এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন শাখায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি কোর্স করার সুযোগ পায়।
এই সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি শিক্ষার্থীদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এনআইটি), দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়, আন্না বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদির মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার এক অনন্য সুযোগ প্রদান করে।
আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্তদের কোনো টিউশন ফি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ফি দিতে হয় না এবং এর পাশাপাশি তারা একটি মাসিক উপবৃত্তিও পেয়ে থাকেন। আইসিসিআর দৈনন্দিন খরচ বহন করবে।
