স্টাফ রিপোর্টার :
দীর্ঘ ১০ বছর আগে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকুড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জামান।
দীর্ঘদিন পর সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন আরিফুল ইসলাম। রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। আরিফুলকে আনতে তার ভাই রাকিব হোসেন, মা নুরজাহান বেগম, বোন আয়েশা বেগম ও ভাগ্নে আশরাফুল ও ভাগ্নি তাসফিয়া একটি প্রাইভেট কার যোগে বিমানবন্দরে যান।

বাড়িতে ফেরার পথে রাত পৌনে চারটার দিকে ঢাকা ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পিছনে সজরে ধাক্কা দেয় প্রাইভেটকারটি। এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় একটি প্রাইভেটকার। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন- খোশালনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ হোসেন (৩০), ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০), মেয়ে আয়শা খাতুন (৩৫), স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) এবং প্রাইভেটকার চালক মনিরামপুর উপজেলার চালুহাটি গ্রামের জাহিদ হোসেন (৩৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আয়শা খাতুনের ছেলে হুসাইন (৮) ও মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৩)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে রাকিব, নুরজাহান বেগম ও আয়েশা বেগম এবং প্রাইভেট কার চালক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
গুরুতর আহত প্রবাসী আরিফুল ইসলাম ও তার ভাগ্নে আশরাফুল ও ভাগ্নি তাফসিয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পথিমধ্যে প্রবাসী আরিফুল ইসলাম মারা যান।
নিহতের দুলাভাই ইলিয়াস হোসেন জানান, দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন গতকাল রাতে আমার বড় শ্যালক। তাকে আনতে আমার স্ত্রী আমার ছোট শ্যালক শাশুড়িসহ ছেলে-মেয়ে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে আসার পথে পথিমধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আজকে যেখানে দীর্ঘদিন পর বাড়িতে সে আসবে বাড়িতে আনন্দময় থাকার কথা ছিল কিন্তু সেখানে শোকের মাতম বইছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাইভেটকারটির গতি অনেক বেশি ছিল। এছাড়া চালকের চোখে হয়তো ঘুম ঘুম ভাব ছিল এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। প্রবাসীর মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।
প্রাইভেট কার ও ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা এসেছেন, তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
