স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি হঠাৎ শীতের আবহ ফিরে এসেছে। ঘন কুয়াশা আর মৃদু ঠান্ডা বাতাস সাধারণ মানুষ উপভোগ করলেও এর নেতিবাচক দিক নিয়ে শঙ্কিত কৃষক।
রোববার ভোর থেকেই পুরো জেলার মাঠ-ঘাট, গাছপালা ও রাস্তাঘাট সবই কুয়াশার আস্তরণে ঢাকা। হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে মনে হবে-প্রকৃতি যেন ঋতুর নিয়ম ভুলে গেছে।
ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, দূরের কিছু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না।
গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য-কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন কুয়াশার দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল।
বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ভিমপুর গ্রামের কৃষক আশুতোষ মালো বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো নাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
“এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
ফরিদপুর জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আব্দুস সামাদ বলেন, “মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে।”
তিনি বলেন, “আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের ক্ষেত্রে বাড়তি নজর রাখতে বলা হয়েছে।”
প্রকৃতিপ্রেমী ফরিদপুর জেলা জজ কোটের আইনজীবী শাহিদুজ্জামান লিটন বলেন, “চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।
“তবে হঠাৎ করে প্রকৃতির এই পরিবর্তন এটা ভালো কিছু নয়।”
