স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরে পুলিশকে মাদককারবারীদের সম্পর্কে তথ্য দেয়ায় মৌলভী আব্দুল্লাহ নামে (৪০) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের এক নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বহিস্কারের পর থেকে তাঁর ওপর হামলাসহ মাদককারবারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান। এসব অভিযোগ তুলে পুরো পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
আজ ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। তিনি একজন নওমুসলিম এবং ফরিদপুর শহরতলীর কবিরপুরে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।
পাশাপাশি ফরিদপুর মহানগর ওলামাদলের সদস্য হিসেবে ছিলেন এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর দুই কণ্যা ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে এবং সকলেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলার সালথা উপজেলার বাউশখালী গ্রামের বাসিন্দা হলেও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গত ৮ এপ্রিল কবিরপুর এলাকার ভাড়াটিয়া বিল্লাল (৫০) নামে এক মাদককারবারী সম্পর্কে কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমীরকে তথ্য দেন। ওইদিন রাতেই তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মাদককারবারীকে গাঁজাসহ গ্রেফতার করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন সাজ্জাদ নামে এক যুবক হাতুড়ি দিয়ে তাঁর আক্রমণ চালায় এবং হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এসময় জাহিদুল নামে আরও এক ব্যক্তি তাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দিলে মাদককারবারীরা তাঁর আরও ক্ষিপ্ত হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর ১০ এপ্রিল তাকে মাদক ব্যবসায়ী অপবাদ দিয়ে বিধিবর্হিভূতভাবে মহানগর ওলামা দলের সদস্য পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিস্কার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘মহানগর ওলামাদলের সদস্য সচিব মাওলানা হোসাইনুর রহমান দলের আহ্বায়ককে না জানিয়ে কোনো মিটিং না করেই ব্যক্তিগত আক্রোশে আমাকে দল থেকে বহিস্কার করেন। কারন, এই মাদক সিন্ডিকেটের সাথে তিনি জড়িত রয়েছেন। উনি জড়িত না থাকলে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বহিস্কারও করতেন না। বহিস্কারের মূল উদ্দেশ্যে, আমাকে মেরে ফেললে কোনদিন বিচার পাব না। কারন, আমারতো চার সন্তান ও স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলার জন্য ওরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাচ্ছি না। আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তাও নেই, আমার সন্তানদেরও নিরাপত্তা নেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সদস্য সচিব মাওলানা হোসাইনুর রহমান বলেন, ‘ওই লোক একজন মাদক ব্যবসায়ী। মাদকসহ এলাকাবাসী ধরে মারধর করার ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত জানানো হয়েছে।’
এছাড়া বহিস্কারের বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক মাওলানা মো. আকরামুজ্জামান জানান, বহিস্কারের বিষয়ে তাঁর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘বহিস্কারের পর আমাকে জানানো হয়েছে।’
অপরদিকে থানায় দেয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন- বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নেই।
