সাইদা আক্তার ইমা. সালথা থেকে ফিরে:
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে উপজেলার ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট্যরা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু খাল বছরের পর বছর পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ১৮টি খাল খননের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, “খালগুলো পুনঃখনন হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, খালগুলো সচল হলে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ধান, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় বর্ষাকালের দুর্ভোগও অনেকাংশে কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন শুধু কৃষির জন্য নয়, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে প্রাকৃতিক জলাধারগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এলাকাবাসী আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে সালথার বহু বছরের পানি সংকট ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে। সেই সঙ্গে কৃষিনির্ভর এই উপজেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আসবে নতুন গতি।
১৮টি খাল পুনঃখননের এ উদ্যোগকে সালথার টেকসই উন্নয়ন ও কৃষি সমৃদ্ধির পথে একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
