স্টাফ রিপোর্টার:
ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) ২০২৮-২০২৯ মেয়াদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই ভারত আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
ভারতের বক্তব্যে বলা হয়, দেশটি এমন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কণ্ঠস্বর সমান গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, নিরাপদ সমুদ্রপথ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভারত তাদের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার নাম দিয়েছে ‘SHANTI’ (Securing Holistic Advancement through Norms, Trust and Integrity)। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ম, আস্থা ও সততার ভিত্তিতে সমন্বিত অগ্রগতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে ভারত ‘MANAV’ (Moral and Ethical Systems, Accountable Governance, National Sovereignty, Accessible and Inclusive, Valid and Legitimate Systems) নামে একটি মানবকেন্দ্রিক নীতির কথা তুলে ধরে।
দেশটির মতে, এআই যেন মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং এর অপব্যবহার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভারত জানায়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ শান্তিরক্ষী বিশ্বের প্রায় ৫০টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ১১টি সক্রিয় শান্তিরক্ষা মিশনের মধ্যে ১০টিতে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ভারতীয় শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রতিও দেশটি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শুধু হামলা প্রতিরোধ নয়, বরং সন্ত্রাসে অর্থায়নের উৎস বন্ধ এবং প্রমাণভিত্তিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানায় ভারত।
এছাড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জলদস্যু দমন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। ভারত জানায়, বর্তমানে বিশ্বের ৭৯টি দেশে ভারতীয় অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শতাধিক দেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন কামনা করে জানায়, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের উপস্থিতি সংস্থাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও বাস্তবমুখী করে তুলবে।
