ফরিদপুর :
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত তোষা পাট ৯ এর আরেক নাম ‘সবুজ সোনা‘। দুই মৌসুম গবেষণা শেষে ফরিদপুরে এক আঞ্চলিক কর্মশালায় এই জাতকে দেশের সেরা পাট জাত বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কৃষিবিদ, গবেষক ও বিজ্ঞানীরা।
ফরিদপুর শহরতলীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘বিজেআর আই কর্তৃক উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল পাট ও পাট জাতীয় ফসলের পরিচিতি, জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালায় এই ঘোষণা দেয়া হয়।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির ফরিদপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মজিবর রহমান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, এতদিন বাংলাদেশে যেসব ভারতীয় জাতের পার্ট বীজ বপন করা হয়েছে তার বেশির ভাগই ছিল দুর্বল। কোনটি জলবদ্ধতা সহিষ্ণু নয়, কোনটি বেশি সময় ধরে চাষ করতে হয়, আবার কোনটির উচ্চতা বেশি হলেও ভঙ্গুর এবং আঁশ পাতলা। নতুন জাত সবুজ সেনা দুই বছর ধরে দেশের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক প্লটে আবাদ করে দেখা গেছে, এর উচ্চতা অন্য জাতের থেকে বেশি, আবাদ করতে হয় মাত্র ১০০ দিন যা অন্য যেকোনো পাটের থেকে তিন থেকে চার সপ্তাহ কম। এটি জলবদ্ধতা সহিষ্ণু হওয়ায় ক্ষেতে পানি জমে থাকলেও কোন অসুবিধা নেই।
বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা ও মাগুরা জেলাতে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রদত্ত সবুজ সোনা’র বীজ সফলভাবে চাষ হয়েছে। আঞ্চলিক ওই কর্মশালায় কৃষকরা এই পাটের সফল আবাদের নানা দিক তুলে ধরেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ খায়ের উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের কারিগরি উইং এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন।
প্রধান অতিথিসহ গবেষক, বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা সবুজ সোনা‘র বীজের ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করেন এবং এই জাতের পাট বীজ কৃষক পর্যায়ে উৎপাদনের পরামর্শ দেন। পাট বীজের বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে নিজের দেশের ভালো জাত নিজেরা উৎপাদনের উপর তাগিদ দেন বক্তারা। এ ব্যাপারে বিএডিসিকে বীজ উৎপাদনে উদ্যোগী হবার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
