স্টাফ রিপোর্টার:
শহর এলাকায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে একটি প্রকল্পের গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপনা মতবিনিময় কর্মশালায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বলেছেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ গবেষণার ফলাফল বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে থাকে, এসব সুপারিশ ও ফলাফল অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন হয় না।
রবিবার দুপুরে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা সেন্টার ফর হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন পরিচালিত পিনাক প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয় ওই কর্মশালায়।
সেখানে চিকিৎসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় প্রাথমিক জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রকল্পের কো অর্ডিনেটর সরকার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং সহ গবেষক ডক্টর জোয়ানা মরিসন।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে কর্মশালার আলোচক ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ও ইংল্যান্ডের সেন্টার ফর নন কমিউনিকেবেল ডিজিজ এর পরিচালক প্রফেসর ড. এডওয়ার্ড ফট্রেল।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল সহ দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং ক্যান্সারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ জীবনযাত্রা এবং সামগ্রিক পরিবেশ এর মতো পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি সমূহ, যা চাইলেই পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে এটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের জন্য নিরাপদ স্থান, সামাজিক অবস্থা এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আচরণ পরিবর্তন এর উপর গুরুত্ব দেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং সমস্যা গুলোর সমাধানে অংশগ্রহণমূলক কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন, ফরিদপুর শহরে নারীদের জন্য সকালে বা বিকেলে হাটার উপযোগী রাস্তার সংকট রয়েছে। আমরা নিরাপদ ওয়াকওয়ে নির্মাণের কথা ভাবছি। এটি শহরবাসির জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছি।
