স্টাফ রিপোর্টার:
এক যুগ আগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ফরিদপুরে মো. নুরুজ্জামান নামে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) নিবন্ধন বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে আইনী লড়াইয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলেও আদালতের আদেশবলে গত দুই বছর আগে তা পুনরায় স্থগিত করা হয়। কিন্তু তা উপেক্ষা করে পুর্নবহাল করার অভিযোগ উঠেছে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্টারের বিরুদ্ধে। এতে অতিরিক্ত দায়িত্বরত নিকাহ রেজিস্ট্রারকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

উচ্চ আদালত ও জেলা রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন নথিপত্র সুত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের দায়িত্বরত নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জালিয়াতি সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে নিবন্ধন বাতিল করেন তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার। পরবর্তীতে ওই ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় পাশ্ববর্তী চুমুরদি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ উল্যাহকে। এরপরেই নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করলে চারমাসের জন্য পুর্নবহালের আদেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে (এক্সটেনশন) চারমাসের পরবর্তীতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মো. নুরুজ্জামান। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দায়িত্ব জেলা রেজিস্ট্রারের এক আদেশে অতিরিক্ত দায়িত্ব ফিরে পান মোহাম্মদ উল্যাহ।
পরবর্তীতে ওই বছরের ২৭ মে আদালতের এক রায়ে পুনরায় ফিরে পেলেও ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে মামলা করেন মোহাম্মদ উল্যাহ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ৭ই জানুয়ারি চেম্বার আদালতের আদেশে পুনরায় নিবন্ধন স্থগিত রাখা হয় এবং মোহাম্মদ উল্যাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। যে বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকলেও চলতি বছরের ১২ মার্চ জেলা রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে নুরুজ্জামানকে পুর্নবহাল রাখা হয়।
ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত পিটিশনে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায়ের প্রেক্ষিতে নুরুজ্জামানের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স পুর্নবহাল করা হয়েছে। একই সাথে অতিরিক্ত দায়িত্বরতকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
অতিরিক্ত দায়িত্বরত মোহাম্মদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন- নুরুজ্জামানের লাইসেন্স আদালতের আদেশে বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। কিন্তু তা তোয়াক্কা না করেই এবং নথিপত্র যাচাই না করেই আমাকে অবৈধভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আমি এই আদেশ বাতিল চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন- আমাকে সরকার থেকেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনকালে আমার জীবনকে তচনছ করে দিয়েছেন নুরুজ্জামান। আমার নামে মানবপাচারের মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমারতো কোনো দোষ ছিল না- কিন্তু আমাকে দিনের পর দিন হয়রানি করে আসছে। আমি বিরক্ত হয়েই তার রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। বর্তমানে আমাকে প্রাণনাশেরও হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সনাকের সাবেক সভাপতি এডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, আদালতের যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ মান্য করা প্রত্যেকটা নাগরিকের দায়িত্ব। এটি কেউ না করলে তিনি অবশ্যই আদালত অমান্য করার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। আমাদের আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা রেজিস্টার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়, তিনি রিসিভ না করলে গুদে বার্তা দিও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
