স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের পরেই বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে নারীসহ পাঁচজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ওই গ্রামের ইস্রাফিল মোল্যা ও অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা ও চান মিয়া।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন- “গতকাল একটি সভায় বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইস্রাফিল মোল্যা এবং ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা, চান মিয়া উভয় গ্রুপই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনী সভা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন তাঁরা। এ সভায় শহিদুল ইসলাম বাবুল উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইস্রাফিল মোল্যা দীর্ঘ বক্তব্য দেয়ায় ওয়াদুদ মোল্যার সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামে এক যুবক বাঁধা দেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়।
এর জের ধরেই দুপুরে ইস্রাফিল মোল্যার ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এরপরেই উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮), লাভলী বেগম (৪৫) সহ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত জাকারিয়া মোল্যা নিজেদের বিএনপি সমর্থক দাবি করে বলেন- আমরা পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগ করি। গতকাল ওরা বাবুল ভাইয়ের সাথে যোগদান করে। ওই অনু্ষ্ঠানে আমার ভাই একটু সময় নিয়ে বক্তব্য দিলে শান্ত নামে একজন পেছন থেকে কটাক্ষ করে। এ সময় তর্কবিতর্ক হয়, এরপর আজ আমাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছ৷ আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অপরপক্ষ ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি৷
