স্টাফ রিপোর্টার: গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন নিয়ে সহিংস আন্দোলনের ঘটনায় ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সভাপতি মন্ডলী সদস্য মজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীকে কেন প্রধান আসামি করা হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন লাইন পোর্টালে বিতর্ক ওঠায় এর ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও ফোকাল পয়েন্ট (মিডিয়া) এক দীর্ঘ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেন। তবে জেলা পুলিশে ক্রাইম এন্ড অপস এর দায়িত্বে কোন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পদ উল্লেখ করা হলেও ওই কর্মকর্তার নাম দেওয়া হয়নি।
“ফরিদপুর- ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের ধারাবাহিক রাষ্ট্রবিরোধী, উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং সহিংসতায় রুজুকৃত মামলায় সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গে”- শিরোনামে দেওয়া ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তির শুরুতে বলা হয়েছে,
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে সংসদীয় আসন পূনঃর্বিন্যাস সংক্রান্তে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন ফরিদপুর-৪ আসন হতে পৃথক করে ফরিদপুর-২ আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করায় স্থানীয় জনসাধারণ
গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা, ঢাকা- বরিশাল, ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে অবস্থান ও অবরোধসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করছে। উক্ত কর্মসূচিকে পুঁজি করে সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কার্যকলাপে ভাঙ্গা উপজেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এই আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে রূপ দেয়ার লক্ষে ভিডিও বার্তায় তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। তিনি এরূপ রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি তার দলীয় কর্মী- সমর্থকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
নিক্সন চৌধুরীর ভিডিও বার্তাটি তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন এবং এর মাধ্যমে তার অনুসারীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে আন্দোলনে সহিংস হতে উস্কে দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ জনগণের আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী তার অনুগত কর্মী-সমর্থকগণ ভাঙ্গা থানা, ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, ভাঙ্গা নির্বাচন অফিস ও ভাঙ্গা কৃষি অফিসে ভাংচুর এবং সরকারি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে ব্যাপকভাবে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে । উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভাঙ্গা থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ১৯ সেপ্টেম্বর আরো একটি ভিডিও বার্তায় নিক্সন চৌধুরী পুনরায় বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার করেন। যেখানে তিনি মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে মর্মে দাবী করে সাধারণ জনগণকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যা ভবিষৎতে আরো ধ্বংসাত্বক আন্দোলনের ইঙ্গিত দেয়।
জেলা পুলিশের দেওয়া এ প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষ প্যাড়ায় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়,
কারও কোন উস্কানিমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে জনশৃংখলা বজায় রাখতে আইন মেনে চলুন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করুন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে “মামলা দিয়ে কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না মর্মে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয় ,”কেহ যদি উস্কানিমূলক বক্তব্য বা গুজব প্রচারে অংশ নেয় তা দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানানোর অনুরোধ করা হল।”
