ভাঙা :
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘারুয়া গ্রামে সরকারি ঘর ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল মাতুব্বর ও তার ভাই সিংগাপুর প্রবাসী মাইনুদ্দিন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। প্রবাসী মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যাবসা নিয়ন্ত্রনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ভূমি অফিস সুত্র জানায়, ৮৬ নং ঘারুয়া মৌজার ( বিএস ২২৩ নং খতিয়ানের দাগ নং ৭,৮) ১২ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমি সরকারের নামে দলিল করা হয়। বিপরীতে আশ্রয়ন প্রকল্প ২ এর অধিনে, ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী ২ শতাংশ জমি ও একটি সেমি পাকা ঘর সরকার উত্তলোন করে দেয় বিল্লাল মাতুব্বরকে। সম্প্রতি সরকারের সেই ২ শতাংশ জমি ও সেমি পাকা ঘর ভেঙ্গে ফেলে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন বিল্লাল মাতুব্বর ও তার ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর। পরবর্তীতে সেই কাজ বন্ধের জন্য ঘারুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বিল্লাল মাতুব্বরের লোকজন।
এ প্রসঙ্গে ঘারুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সোহেল মিয়া জানান, ঘারুয়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মাতুব্বর ও তার ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর লোকজনের বিরুদ্ধে সরকারি সেমি পাকা ঘর ভেঙ্গে ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদেরকে সতর্কতা করার পরেও কাজ বন্ধ করেন নি তারা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রকৃয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, বিল্লাল মাতুব্বরের বোন আমেনা খাতুন জানান, তার নামে দলিলকৃত ৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করেছে তার দুই ভাই বিল্লাল মাতুব্বর ও মাইনুদ্দিন মাতুব্বর ও ভাতিজা সাজ্জাদ মাতুব্বর। এই নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল ফরিদপুর আমলী আদালতের দারস্থ হন তিনি। পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল তার অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত ওই ৩ শতাংশ জমির উপর ১৪৪ ধারা জারী করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে তার দুই ভাই তার ৩ শতাংশ জমিসহ সরকারের আরও ২ শতাংশ জমি ও সেমি পাকা ঘর ভেঙ্গে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে।
আমেনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, সেই কাজে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তার ভাই সিংগাপুর প্রবাসী মাইনুদ্দিন মাতুব্বর। যার ভয়েজ রেকোর্ড তার কাছে হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তার পরিবার। বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সরেজমিনে আজ বুধবা দুপুরে সমকাল প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিল্লাহ মাতুব্বরের ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর বিদেশে বসেই ঘারুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। ইতোপূর্বে তার নামে থানায় একাধিক মাদক মামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্ম থেকে বাঁচতে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে সিংগাপুরে পাড়ি জমায় মাইনুদ্দিন মাতুব্বর। সেখানে বসেই তার প্রতিবেশী স্থানীয় কথিত সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় গ্রামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন মাইনুদ্দিন মাতুব্বর ও তার ভাতিজা সাজ্জাদ মাতুব্বর। এ ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে মাইনুদ্দিন মাতুব্বরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। মাদক ব্যবসার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি মাইনুদ্দিনের ।
তবে বিল্লাল মাতুব্বরের স্ত্রী শান্তা বেগম সরকারি পাকা ঘর ভেঙে ভবন নির্মাণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্নভাবে সমকালকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন শান্তা।
ঘটনার তদন্তকারি কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক ডালিম মিয়া বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল ২৮ এপ্রিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৪৪ জারি করা হয়। এছাড়াও বিল্লাল মাতুব্বরের স্ত্রী শান্তা ইসলামসহ পরিবারের অন্নান্যদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য বলা হয়। যদি কোর্টের নির্দেশনা কেউ অমান্য করেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম জানান, সরকারি জায়গায় পাকা ভবন ভেঙে ভবন নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তহসিলদার পাঠিয়েছি, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
