স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, (স্বতন্ত্র) হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, আমার প্যান্ডেল ভাঙ্গা হয়েছে, আমি ভাঙ্গা প্যান্ডেলে রোদ্রের মধ্যে উপস্থিত চরবাসীকে নিয়ে এই অনুষ্ঠান করে গেলাম। এতে আমাদের সবারই কষ্ট হলো। কারো কোন উপকার হয়নি।
তিনি বলেন, আমি নির্বাচন করবো কিনা সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেইনি। তবে মানুষ জিদ করলে অনেক কিছু করে। আমাকে প্রতিপক্ষ করবেন না । অনেক বড় বড়টার সাথে খেলে এই পর্যন্ত এসেছি। হুমকি ধামকি দিয়ে এমন সামাজিক কাজকে যারা বাধাগ্রস্থ করতে চান তাদের বলি, আমাকে নির্বাচনে নামতে বাধ্য করবেন না। আমি এখনো আপনাদের প্রতিপক্ষ নই। আমি আপনাদেরই একজন। সকলে মিলে মিশে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর খেয়াঘাট এলাকায় অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাগুলো বলেন তিনি।
শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ কে আজাদের এপিএস অমিত ঘোষ জানান, এ অনুষ্ঠানে ২৫৫টি নদী ভাঙ্গা পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের টাকা তুলে দেন এ কে আজাদ।
অমিত ঘোষ আরও বলেন, এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে একটি প্যান্ডেল তৈরি ও শামিয়ানা টানানো হয়। তবে শুক্রবার রাতে প্যান্ডেলের ক্ষতিসাধন করে এবং শামিয়ানা নিয়ে যায় অজ্ঞাত দুর্বিত্তরা। পরে আজ দুপুরে ওই ভাঙ্গা প্যান্ডেলেই অনুদান বিতরণ করেন এ কে আজাদ। এ সময় তিনি এলাকাবীর সাথে মতবিনিময়ও করেন।
এ কে আজাদ বলেন, চরবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা নদী ভাঙ্গন। আমি এই জর এলাকারই সন্তান। আমি নদী ভাঙ্গাকবলিত চরবাসীর দুঃখ, কষ্ট, বেদনার কথা জানি।
তিনি বলেন, তবে এই নদী ভাঙ্গার বড় একটি কারণ হলো নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করা। রাতের আঁধারে এখনো বালি কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এদের প্রতিহত না করতে পারলে নদী ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব না।
এ কে আজাদ বলেন, আড়াই টাকা ফিট বালি তুলে ৬ টাকা ফিট বিক্রি করে। কোটি কোটি ফিট বালি থেকে কোটি কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয়। সেই টাকার ভাগ করা কারা পায় তাও আমরা জানি। তাদের নাম মুখে নিতে চাই না। সামনে নির্বাচন তাদের নাম মুখে নিলে লজ্জায় ভোট চাইতে পারবেন না।
এ কে আজাদ শনিবার দিনব্যাপী নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর, ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও জয়নাল মাতুব্বরের ডাঙ্গীতে পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন ।
এসময় তিনি নদী ভাঙ্গনের শিকার ২৫৫টি পরিবারকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেন। এসময় তিনি পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের জনপদ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে চরবাসীকে আশ্বাস দেন।
অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন, পরিচালক বেলাল হোসেন, শিক্ষক নেতা আক্কাস হোসেন, আলীয়াবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, এনজিও ব্যক্তিত্ব বিএম আলাউদ্দিন, ইউপি সদস্য সালমা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
