স্টাফ রিপোর্টান:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়াতে অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল।

বুধবার(১ জুলাই) বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উপজেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা আব্দুল জলিলের একটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলের দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব রেজিস্ট্রার অফিসের বাহিরে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করেন। ভূমি অফিসের নামে জমির নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য সেবা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন এবং বিভিন্ন কাজ নিয়ে দিনে একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিসও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। তাকে এভাবে ভূমি অফিসের বাহিরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে একাধিকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং জমির দালালি বাদ দিয়ে অন্য কোন কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তথাপি তিনি ভূমি অফিসে বারংবার আসা-যাওয়া বহাল রেখেছেন এবং মৌখিক সর্তকতায় কোনরকম কর্ণপাত করেননি বিধায় তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিনি এসব অভিযোগ স্বীকার করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তার প্রতিষ্ঠানে সেবামূল্য তালিকা না থাকায় সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
মোবাইলের একটি অডিও বার্তায় শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানকে বলেন, মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, “ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল বলেন, আমাদের দলীয় নেতার বিষয়টি জানতে পেরে এসিল্যন্ডকে মোবাইল করেছিলাম। পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কথা বলেছি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)আহবায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, এ ধরণের অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক আইন পরিপন্থী। এটা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) যুগ্ম আহবায়ক এস এম জাহিদ বলেন, অডিওটি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক তার বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অফিসের বাহিরে ঘোরাঘুরির একাধিক ফুটেজও রয়েছে এছাড়া তার সেবা প্রতিষ্ঠানে কোন সেবা কোন মূল্যে তিনি প্রদান করে থাকেন সে সংক্রান্ত কোনো তালিকা প্রকাশ্যে টানাননি। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
