স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরে ভোর রাতে একটি পেট্রোল পাম্পে ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাম্পকর্মচারীদের মারধর ও বেঁধে রেখে নগদ টাকাসহ মোবাইল ও কম্পিউটার নিয়ে যায় ডাকাতদল। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে ডাকাতেরা, যার পুরো ঘটনা একাধিক সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আজ সোমবার ভোর রাত পৌনে ৫ টায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সিবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পাম্পটিতে ম্যানেজারসহ ৪ জন কর্মচারী অবস্থান করছিল। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা ছুটে যান এবং পুলিশ, র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিসিক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে মহাসড়ক থেকে দৌড়ে পেট্রোল পাম্পের ভেতরে ১১ জন প্রবেশ করে। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, কাটার ও লাল রংয়ের বালতিভরা ককটেল সদৃশ বস্তু দেখা যায়। প্রথমে তাঁরা পাম্পের সামনে অবস্থান করা দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ডাকাতদল ক্যাশকক্ষে প্রবেশ করে এবং ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। ডাকাতদল ৫ মিনিটের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া শেষ করে ৪টা ৪৫ মিনিটে পুনরায় মহাসড়কের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে, তাঁদের ব্যবহৃত কোন গাড়ি দেখা যায়নি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নজেলম্যান (কর্মচারী) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাতে আমরা বসে টিভি দেখছিলাম, হঠাৎ করে ১১ জন লোক দৌড়ে আসে। এসেই আমার কলার ধরে এবং আমাদের দুইজনকে মুখ আটকিয়ে ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর ক্যাশিয়ারকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং ক্যাশবাক্স ভেঙে টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। তাঁর ভাষ্যমতে, অসুস্থ থাকায় তাকে মারধর না করলেও অপর সহকর্মী ও ক্যাশিয়ারকে চড়থাপ্পর ও মারধর করা হয়। পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান জানান, রোববার দিবাগত রাত ৪ টার দিকে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জন ডাকাত পাম্পের দক্ষিণ দিক থেকে এসে হানা দেয়। এ সময় দায়িত্বে থাকা পাম্পের নজেল ম্যান ও মিটার ম্যানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাতরা ক্যাশ রুমের চাবি চাইলে তারা না দেয়ায় ওই দুই জনকে মারপিট করে। পরে ক্যাশ রুমের তালা কেটে ডাকাতদল ১ লাখ ৯৮ হাজার লাখ টাকা, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরার মেশিন নিয়ে নেয়। এ সময় একটি মনিটর ভাংচুর করে ডাকাতরা। ডাকাতি শেষে একই দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
