স্টাফ রিপোটার : ফরিদপুরে সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে এক নারীর অস্ত্রোপচারের ঘটনায় ছাত্রনেতা পরিচয়ে নাস্তা খাওয়া ও মিমাংসার নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ছাত্রদল পরিচয়ে হাসপাতালের মালিকের কাছে টাকা দাবি করেন।
জানা যায়, ছাত্র নেতা পরিচয়ে ওই যুবকের নাম রায়হান সৌরভ। তিনি জেলা সদরের অম্বিকাপুর এলাকার বাসিন্দা। নিজেকে ফরিদপুর হেলথ ক্লাবের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দাবি করেন এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দেন। এমন পরিচয়ে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে অবস্থিত সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতাল গিয়ে নাস্তা ও মিমাংসার নামে টাকা দাবি করেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপণা পরিচালক মাজেদুর রহমানের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কথাপোকথনে বিষয়টি উঠে আসে। এমন একাধিক ভয়েসরেকর্ড ও কলরেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (০৬ ডিসেম্বর) হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, ববিতা বেগম (২৮) নামে এক নারীর স্তন ক্যান্সার পরীক্ষার টিস্যু সংগ্রহের জন্য অস্ত্রোপচার করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেয়ামত শেখ। এ ঘটনায় ওই নারীর অস্ত্রোপচারস্থলে মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণের কারণে অধিকাংশ কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠলে পরেরদিন রোববার অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেন জেলা প্রশাসন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রতিনিধি পরিচয়ে হাসপাতালের মালিকের কাছে টাকা দাবি করেন সৌরভ রায়হান।
ভুক্তভোগী নারীর স্বজন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক নাজমুল হাসান বলেন- “আমার মামির সাথে এমন ঘটনায় বিচারের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গা অভিযোগ করছি, মামলাও করেছি। এরমধ্যে হাসপাতালের মালিক আমাদের জানায়- সৌরভ রায়হান নামে ওই লোক মিমাংসা ও নাস্তা খাওয়ার নামে আমাদের কথা বলে টাকা নিয়ে আসছে, অথচ আমরা কিছুই জানি না। সৌরভ রায়হান আমাদের কেউ না বা কখনও ডাকিও নাই।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ছুটে যান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান। তিনি ওই পরিবারের কাছে সৌরভ রায়হানকে টাকা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন- “আমি ভেবেছিলাম সকলে একসাথে এবং দশ হাজার টাকা চায়। তখন আমি নাস্তা খাওয়ার ৬ হাজার টাকা দিয়েছি। পরবর্তীতে জানতে পারি, ও কাউকে খাওয়ায় নাই।”
এছাড়া তাঁর কর্মকান্ড নিয়ে বিব্রত বলে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক ছাত্রনেতা জানান। সম্প্রতি শহরের থানারোডে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের মাঝে হেলেদুলে হেটে হেটে নেতৃত্ব দিতেও দেখা যায়, এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচিত হোন। এসব বিষয়ে জানতে সৌরভ রায়হানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজের সাথে। তিনি বলেন- “সৌরভ রায়হানের সাথে আমাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ যদি এই পরিচয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডে করে তাহলে অবশ্য তার বিরোধীতা করি।”
