স্টাফ রিপোটার : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা এবার ফরিদপুরে আরও বেশি জমজমাট হয়েছে। বিশেষ করে আলফাডাঙ্গার কুসুমদী গ্রামের হরি মন্দিরের মন্ডপে সাজানো হয়েছে একান্ন সতীপীঠের থিমভিত্তিক এক অনন্য প্রদর্শনী।
ভারত থেকে আসা পাঁচ জন প্রতিমা শিল্পী এখানে ৫১টি পীঠ নিয়ে মোট ১৫১টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে তিনটি প্রতিমা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে। এক প্রতিমা ঢুলি-ঢোল বাজাবে, অন্যটি মোমবাতি জ্বালিয়ে আড়তি দেবে। দূর্গার প্রতিমার পায়ের নিচে লাগানো বাগটি নড়ে মুখবায়ব তৈরি করে ভক্তদের নজর কাড়বে।

ফরিদপুর জেলায় মোট ৭৫৮টি মন্ডপে দূর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে। বেলতলায় মহা ষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব শুরু হবে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজার পর ২ অক্টোবর রাতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে।
এই মন্ডপে সনাতন ধর্মের চার যুগের দেব-দেবীদের জীবনকাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ফরিদপুরসহ আশেপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এই বিশেষ প্রদর্শনী দেখতে আসছেন।
স্থানীয় সাবেক পৌর কাউন্সিলর দিলীপ কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, এতগুলো সতীপীঠ এক জায়গায় দেখে ভক্তদের খুবই ভালো লাগবে, কারণ সাধারণত এক জন ভক্তের পক্ষে এতগুলো জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, “একান্ন সতীপীঠ বলতে বোঝায় হিন্দু ধর্মের সেই পবিত্র স্থানগুলো যেখানে দেবী সতীর দেহ ৫১ খন্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এই পীঠগুলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, তিব্বত ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।”
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, এবারের দূর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপগুলো সম্পর্কে প্রশাসন সচেতন রয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা থাকবে এবং পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর থাকবে। অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব-১০ কোম্পানি কমান্ডার তারিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর ১২৫০ পূজা মন্ডপে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।”
