স্টাফ রিপোর্টার:
গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা এই বৃষ্টিপাত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সকাল থেকে কোথাও সূর্যের দেখা না মেলায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি। এতে শহরের বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য।
টানা বর্ষণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ।
সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অনেকেই সকাল থেকে কাজের অপেক্ষায় থাকলেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রী বা কাজ পাননি।
উত্তর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ের রিক্সা চালক হামিদুল, আজাহার মোল্লাসহ কয়েকজন জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বৃষ্টিতে ভিজেছি। কিন্তু শহরের জনমানব শূন্য হওয়ার কারণে তেমন রোজগার করতে পারিনি।
একই প্রসঙ্গে কথা হয় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ।মতিয়ার রহমানের সঙ্গে। তিনি এই উপজেলার একজন মরিচ চাষী। তিনি বলেন, যেভাবে টানা বৃষ্টি হচ্ছে তাতে মরিচ খেতে পানি জমে যাওয়া সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমার এক একর জায়গায় মরিচের ক্ষেত্রে রয়েছে। খেতে পানি আটকে গেলে অধিকাংশ মরিচের গাছ মরে যাবে।
তিনি জানান তার মত মধুখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মরিচের আবাদ করা হয়।
অন্যদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি খাতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান জানান, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে এই বৃষ্টি জেলার পাট চাষীদের জন্য খুবই উপকারি বলে মনে করছেন তিনি।
