স্টাফ রিপোর্টার:
লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগম। মৃত্যুর এক মাস পর অবশেষে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে তার মরদেহ। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে ভিড় করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় দিপালীর মরদেহবাহী উড়োজাহাজ। সেখানে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হন স্বজনরা।
রাতভর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোরে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পৌঁছায় মরদেহ। পরে ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিয়ে চরভদ্রাসনের আদারচর ঘাট হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে নেওয়া হয় পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাড়িতে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন,“আমার মেয়েটা জীবিকার জন্য বিদেশ গেছিল। এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে ভাবিনি.”
নিহতের পিতা মোফাজেল শেখ জানান এক মাস পর মেয়ের মুখটা দেখতে পেলাম, কিন্তু সে আর কথা বলবে না…”
শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে নিজ গ্রামেই দিপালী বেগমকে দাফন করা হয়। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী জানান, “সরকারের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবার আরও তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে।”
চরভদ্রাসন সহকারি কমিশনার জায়েদ হুসাইন বলেন,সরকারি সহযোগিতায় আমরা মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এই পরিবারের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেগ আমরা সহযোগিতা করব।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন দিপালী বেগম। কিন্তু যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতায় জীবনের ইতি টানতে হলো ভিনদেশের মাটিতে। এখন শুধু স্মৃতি আর শোক নিয়েই দিন কাটছে স্বজনদের।
