স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, গ্রামবাসীসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে বলে জানান ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান ।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর একই এলাকায় টানা আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে রাত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হয়।
পুলিশ জানায়, দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর টানা আড়াই ঘণ্টা মুনসুরাবাদ বাজারে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে পাশের তিন গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়।
রাত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়ান তারা।
এ সময় মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষের তীব্র আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি।
“পরে ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্যরা এলে সকাল ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”
ওসি আরও বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেলের আঘাতে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
