নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক দূরত্ব, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে এখানকার মানুষ এখনও নানা মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। তিনি যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টে একজন প্র্যাকটিসিং সলিসিটর হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্য সরকার-এর আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানবাধিকার, সুশাসন ও দেওয়ানি আইনে তার অভিজ্ঞতা তাকে একটি শক্তিশালী পেশাগত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
সামিরা তানজিন চৌধুরী রাজনৈতিকভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তিনি মরহুম জননেতা আবুল হারিছ চৌধুরী-এর কন্যা, যিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর। পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক আদর্শ ও ত্যাগের ঐতিহ্য বহন করলেও সামিরা নিজেকে গড়ে তুলেছেন আধুনিক, শিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পেশাজীবী হিসেবে।
স্থানীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রেখে তিনি তাদের সমস্যা, বিশেষ করে নারীদের পিছিয়ে পড়া অবস্থা, ঘনিষ্ঠভাবে অনুধাবন করছেন। নারী শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তার উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ অবস্থায় সিলেট-৫ আসনের মতো দীর্ঘদিন অবহেলিত অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সামিরা তানজিন চৌধুরীর নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বীকৃতি হবে না—বরং তা হবে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে যেমন অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে, তেমনি নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
সামিরা তানজিন চৌধুরী নিজেও জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি শিক্ষা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেবেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত হারিছ চৌধুরী পরিবারের। একইসঙ্গে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে সিলেট-৫ আসনে প্রতিনিধিত্ব না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমও পিছিয়ে রয়েছে। তাই এই আসনে সংরক্ষিত নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী সিলেট-৫ আসনের জন্য এক সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
