স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে মাদক নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে এক পক্ষের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ।
এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আহত দুইজনকে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গীর আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান জানিয়েছেন শনিবার।
আহতরা হলেন- ওই এলাকার রাজা মিয়া (৭০) ও জয়নাল শিকদার (৬৫)। তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় এক পক্ষে লতিফ শিকাদারের ছেলে বক্কার শিকদার (৪২) এবং অপর পক্ষে রাজা মিয়ার ছেলে ওমান প্রবাসী টুলু মিয়া (৩৫) নেতৃত্ব দেন।
১৪ অগাস্ট ডাঙ্গী এলাকায় বসে স্থানীয় কয়েক যুবক ইয়াবা সেবন করেন। মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন টুলু মিয়া ও সুমনসহ কয়েকজন ব্যক্তি। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে টুলু ও তার সহযোগীরা টাকা দাবি করেন।
পরে স্থানীয় শাকিলের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। টুলু মিয়া টাকা নিতে গেলেই তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ টুলুকে থানায় নিয়ে যায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজার মণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে মহড়া দেয়। এ সময় তারা আগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় মুদি দোকানি বক্কার শিকাদার ও মান্নানকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পরে ঘটনাটি বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে ছড়ায়। এক পর্যায়ে টুলুকে না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে মারধর করা হয়ে। এ সময় আহত অবস্থায় তাদের জিম্মি করে রাখেন কয়েকশ লোকজন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের গাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অতিরিক্ত পুলিশ এবং কোতোয়ালি থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়াকে ফোন করা হলে তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মৃধা বলেন, “টুলু মিয়া ওমানে থাকলেও মাঝে মধ্যে দেশে আসেন এবং আধিপত্য বিস্তার করেন।
“তারা দুই থেকে তিনটি পরিবার ব্যতিত পুরো গ্রাম একদিকে রয়েছে। গতকাল ঘটনা ঘটিয়ে সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি নাকি আবার ওমান চলে গেছেন।”
ওসি মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য ও মাদকসহ নানা বিষয়ের জেরে দুপক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এখনো দুপক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। তবে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এ ছাড়া পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
