স্টাফ রিপোটার :
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম কামাল ও আওয়ামী লীগের নেতা মাজহারুল আলম চঞ্চল এর বিরুদ্ধে এতিমের সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন আপন ভাতিজা মুসান্নার ইবনে আলম। এ বিষয়ে মুছান্না আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত সার্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
মোসান্নার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইউনিয়নের ভাটিকানাইপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম কামাল ও তার ভাই মাঝহারুল আলম চঞ্চল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার আপন বড় ভাই মৃত: সাইদুল আলমের একমাত্র সন্তান মুছান্নার ইবনে আলমের ওয়ারিশানা সম্পদ কানাইপুর বাজারের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান (ফার্মেসি) মেসার্স মতি মেডিকেল হল এর জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা চালায় ৷ আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মুছান্নার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
মুছান্নার ইবনে আলম জানান, গত ৮ ডিসেম্বর আমার ওয়ারিশানা ও দখলীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায় আমার দুই চাচা সাইফুল আলম কামাল ও চঞ্চল। এসময় আমার দোকান ভাংচুর করে, ক্যাশের থেকে ২ লক্ষ টাকা লুট করে। আমাকে ও দোকানের কর্মচারীদের মারপিট করে।
সরেজমিনে কানাইপুর বাজারে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে একাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকগন নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা বলে কোন প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হন না। এমনকি কামাল ও চঞ্চলের আপন দুই চাচাতো ভাই কানাইপুর বাজারে ডাক্তারের চেম্বার দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার সময় কথা বলতে গেলে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অপারগতা প্রকাশ করেন। বাজারের সকল দোকানীরাই কামালদের ভয়ে ভীত ও নির্যাতিত। এদিকে ঔষধের দোকানটি বন্ধ থাকায় সাধারন মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মুছান্নার মা স্কুল শিক্ষিকা বিধবা আসমা খানম নিজের সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বলেন, মুছান্নার ৩ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। বাবা হারা সন্তানকে আমি খুব কষ্ট করে মানুষ করেছি। আমার শশুড় মৃত আলমগীর মিয়া মারা যাওয়ার আগে যে ওয়াসিয়তনামা করে যান সে অনুযায়ী সম্পদ বন্টন করা হয়। কিন্তু ব্যাংক লোন থাকায় ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্টন হয় না। ২০২৪ সালে পরিবারের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে শালীশের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লিখিত বন্টন করা হয়। বন্টনে কামালে ইট ভাটা, চঞ্চলকে শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ের ঔষধের দোকান মতি মেডিকেল শাখা এবং আমার সন্তনকে কানাইপুর বাজারের মতি মেডিকেল শাখা প্রদান করা হয়। এরপর থেকে আমার ছেলে ঔষধের দোকানের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। এমনকি দোকানের ফার্মেসি লাইসেন্স এর নাম পরিবর্তন করে মুছান্নাকে নিজের নামে করে দেন কামাল ও চঞ্চল। এখন আমার এতিম সন্তানের সম্পদ দখলের জন্য আমার সন্তানকে মারধোর করে দোকান থেকে বের করে দেয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার সন্তানকে বাড়ি ছাড়া করেছে। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি তার সন্তানকে তার কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানান তার মা।
মুসান্নার ফুপু তাহমিদা সুলতানা বলেন, আমার ভাই সাইফুল আলম কামাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার ভয়ে এলাকার মানুষ টটস্থ থাকে৷ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দোসর সন্ত্রাসী শামীম হকের সহযোগিতায় গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এলাকার বিভিন্ন মানুষের তার নির্যাতন ও হামলা শিকার। অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীর উপরে নির্যাতন চালিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এখন আমরা পারিবারিক ভাবে কামাল ও চঞ্চলের নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমার ভাইয়ের এতিম সন্তান চঞ্চলকে মানুষ করতে পরিবারের অনেকেরই অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল। এখন আর আর চুপ থাকার সময় নেই। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এতিমের সম্পত্তি মেরে খাওয়ার সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে সাইফুল আলম কামাল বলেন, আমাদের পারিবারিক যে সালিশ নামা হয়েছে সেটা আমরা মানি না কারণ আমার ভাতিজাকে যে সম্পত্তি দেওয়া হয়েছে তার অংশটা আমাদের থেকে তিন গুণ বেশি। সালিশের মাধ্যমে আমাদের ঠকানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে সেই তিন বছর বয়স থেকে আমার ভাতিজাকে লালন পালন করে বড় করার পেছনে আমাদের অবদান রয়েছে। যা অস্বীকার করে আমার ভাতিজা আমার ও চঞ্চলের গায়ে আঘাত করে। দোকানে গেলে সেদিন আমাদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। তার সঙ্গে কোন আপোষ করার সুযোগ নেই।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এস আই মো: সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুপক্ষের বিবাদমান সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মতি মেডিকেল ফার্মেসিটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। কোতয়ালী থানায় এ বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
