স্টাফ রিপোর্টার :
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
রোববার রাতে হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করলে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দিলে তাকে হাসপাতালের সিসিউতে নেওয়া হয়।

৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মানবেন্দ্র দেব বলেন, বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি আছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন সাংবাদিকদের জানান , “মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে রাত ১০টার দিকে বারডেম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক সেলিম ভাইকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।”
১৯৮০ সালে কমিউনিস্ট পার্টির তৃতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন সেলিম। নব্বইয়ের দশকে শুরুর দিক থেকে তিনি সিপিবির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে পার্টির দশম কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে প্রায় আট বছর কারাবরণ ও আত্মগোপনে ছিলেন এই নেতা।

সংক্ষিপ্ত কর্মকান্ড এই বীর মুক্তিযোদ্ধার :
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি। তিনি স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর প্রথম সহ সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রাথমিক জীবন
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার অদূরে সাভারে। বাবা মোসলেহ উদ্দিন খান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা আর মা উম্মে হানী খানম ছিলেন নারীনেত্রী ও সমাজসেবক। স্কুল জীবনে স্কাউটসহ নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। স্কুলছাত্র থাকাকালীন ১৯৬৬ সালে আউযুব খানের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে সেলিম কারাবরণ করেন। কলেজে পা দিয়েই সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী ছাত্র আন্দোলন ও রাজনীতিতে। এ সময় তিনি গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেও যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। সেলিম স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেন।
মুক্তিযুদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্র জীবন শেষে সেলিম পার্টি-জীবনকে বেছে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ক্ষেতমজুরদের সংগঠিত করার কাজে মনোযোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে শুরুর দিক থেকে সেলিম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১২ সালে পার্টির দশম কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে প্রায় আট বছর কারাবরণ ও আত্মগোপনে ছিলেন এই নেতা।
পরিবার
ব্যক্তিগত জীবনে সেলিম এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক।
গ্রন্থতালিকা
‘রাজনীতির নানা প্রসঙ্গ’, ‘মার্কসবাদ একটি চিরায়ত দর্শন’, ‘বিকল্পের কোনো বিকল্প নেই’সহ বিভিন্ন গ্রন্থের প্রণেতা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এছাড়া রাজনীতির ফাঁকে ফাঁকে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কলামও লিখছেন । -( তথ্য সংগ্রহ ইউকিপিডিয়া)
