স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধরের শিকার হন সবুজ প্রামাণিক (২৮) নামে এক ট্রাক চালক।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শহরের চকবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাক চালকরা ফরিদপুর তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার ময়লা পরিবহন আজ বুধবার সকাল থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের দাবি এ মারধরের ঘটনায় জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়া পযন্ত তারা বাজার এলাকার ময়লা পরিস্কার করবেন না।
এর ফলে চকবাজার ও তিতুমীর বাজার সংলগ্ন ফলপট্টি, থানার মোড়, ডাচ বাংলা ব্যাংকের সামনের মোড়, ময়ড়া পট্টি এলাকা ও আলীমুজ্জামান সেতু সংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তুপের সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুর পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে , প্রতিদিন ভোরে তিন টন ধারনক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্রাকের চালক চারজন শ্রমিক নিয়ে দুইবারে বাজার এলাকার এ পাঁচটি জায়গায় রাতের জমিয়ে রাখা ময়লা অপসারণ করে।
পৌরসভার ট্রাক চালক ও শ্রমিকদের ওই দুটি বাজার এলাকার ময়লা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের ঘটনা নিশ্চিত করে ফরিদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পরিদর্শক বিকাশ দত্ত জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে চকবাজার এলাকায় ট্রাক চালক সবুজ মারধরের শিকার হওয়ার পর রাতেই পৌরসভায় বসে ট্রাক চালক ও শ্রমিকরা হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়া পযন্ত ওই দুই বাজার এলাকার ময়লা পরিবহন না করার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, বুধবার সকাল থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ ট্রাক চালক ও শ্রমিকদের বাজার এলাকার ময়লা নেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করলেও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকে।
বিকাশ দত্ত আরও বলেন, এ ঘটনায় মারধরের শিকার ট্রাক শ্রমিক সবুজ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলাদায়ের করেছেন।
এ মামলায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়।
মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদেরকে আমরা খুঁজছি। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারবো।
পৌরসভার ট্রাক চালক ও শ্রমিকদের ময়লা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন বলেন, সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে হচ্ছে জনগণকে জিস্মি করা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের সনাক্ত করে পুলিশ তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিক তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধ করে দেবে, এটি কাংখিত নয়।
প্রসঙ্গত গত রবিবার (৯ আগস্ট) থেকে ফরিদপুর পৌরসভা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনাকীর্ণ জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ফুটপাত দখল মুক্ত করার কাজ শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ অভিযানের তৃতীয় দিনে চকবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েনে এ অভিযানে অংশ নেওয়া পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এ সময় ট্রাক চালক সবুজকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
সবুজ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাতেই নিজে বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলাদায়ের করেন।
