স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর-৪ আসনে ইতিহাসের ঘৃণিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এ এম মুজহিদ বেগ। তিনি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন এবং সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য নির্বাচনী মাঠে বেশ আলোচনায় রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কর্মী সমর্থকদের হুমকি-ধমকিসহ অস্ত্র নিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হামলা-মামলার ভয়, পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার, ক্যাম্পেইনে বাঁধা, ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছেন একটি বড় রাজনৈতিক দল। এছাড়া চার্জশীটভূক্ত আসামীরা দলটিতে ভিড়ে নির্বাচনী মাঠে এমন ভীতি ছড়াচ্ছেন। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
আসনটিতে নির্বাচনী মাঠে অস্থিতিশীল পরিবেশের অভিযোগ তুলে আজ রোববার বিকালে চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ আলেপের মোড় এলাকায় নিজ নির্বাচনী মনিটরিং কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন এবং ভাঙ্গা উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক সৌহার্দপূর্ণ আচরণের জন্য দলটির নাম প্রকাশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বড় একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে। সরকারের এমন প্রতিজ্ঞার কারনে আমরা নির্বাচনের মাঠে লড়াই করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ফরিদপুর-৪ এ নির্বাচনী পরিবেশ মোটেও সুন্দর হচ্ছে না, সুষ্ঠ হচ্ছে না, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের মহিলাকর্মী থেকে শুরু করে যারা আমাকে পছন্দ করে- এটা যদি কেউ জানতে পারে তাহলে বাড়িতেই থাকতে পারছে না, তাঁদের হামলা ও মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। যার কারনে তাঁরা ঘর থেকেও বের হতে পারছে না। অনেক কর্মীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে তাঁদেরকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে যে তাঁরা যেন কোনোভাবেই আমার নির্বাচন না করে। প্রতিটা অঞ্চলে যদি আমার এক হাজার কর্মী থাকে তাহলে ওই এক হাজার কর্মীকেই হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমন কোনো কর্মকান্ড নেই তাঁরা করে যাচ্ছে, যাতে করে নির্বাচনী মাঠ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রতিটা অঞ্চলে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। গ্রামের গোত্রীয় ও দলাদলির কারনে ভয়ে তাঁরা অভিযোগও করতে পারছে না। আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
বিগত দিনে চার্জশীটভূক্ত আসামী, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী, ফৌজদারী মামলার আসামীরা দলে ভিড়ে প্রকাশ্যে এমন ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার বাইরে ছিল, এতোদিন আসতে পারে নাই। নির্বাচনের কারনে তাঁরাই কোনো কোনো দলের সাথে মিশে মাঠে এসেছেন এবং উত্তপ্ত করে তুলছেন। তাঁরা সরকার ও ফরিদপুরের প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং ফরিদপুর-৪ এর নির্বাচন হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘৃণিত নির্বাচন।’
এছাড়া স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা ও প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন- ‘আমি যেখানেই ব্যানার ফেস্টুন লাগাই সেখানেই সেগুলো ছিড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আমার এখানে যারা আসে, তাঁদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। হাত-পা ভেঙে গুড়াগুড়া করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে।’
এ সময় তিনি বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আচরণবিধি সব সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য একরকম অন্য প্রার্থীর জন্য সম্পূর্ন ভিন্নরকম। আচরণ বিধি প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। প্রশাসন এক্ষেত্রে পুরাপুরি অন্ধ। তাঁরা চোখে ছানি অপারেশন করে এই অঞ্চলের নির্বাচন আচরণবিধি যেন লক্ষ্য করেন। এক ওয়ার্ডে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প থাকার কথা কিন্তু কোনো কোনো প্রার্থীর এক ওয়ার্ডে ৫ থেকে ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাঁরা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।
তিনি আসনটিতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসন যদি গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে এই আসনের নির্বাচন কোনোভাবেই সুন্দর হওয়ার সম্ভবনা নেই। যদি ভোটার উপস্থিতি করতে চায়, তাহলে যারা পেশিশক্তি প্রয়োগ করছে, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী এবং যারা মানুষকে হামলা-মামলার ভয় দেখাচ্ছে অবশ্যই তাঁদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন যেন একপাক্ষিক না হয়।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠে আমাদের ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি টিম রয়েছে এবং সেখানে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। তাঁরা কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ইনকোয়ারি টিমের কাছে অভিযোগ করলে তাঁরা ব্যবস্থা নিবেন।’
