স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরের বান্ধব পল্লীতে ( পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বসতি ) প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী ও তরুণদের আইনগত সচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারের লক্ষ্যে নন্দিতা সুরক্ষার উদ্যোগে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং ফরিদপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর প্রোগ্রাম অফিসার,এম এ নাহার ।
তাঁরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় বিদ্যমান আইনগত সহায়তা, সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সহজ ভাষায় অবহিত করেন।
দ্যা এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং এফসিডিও (FCDO)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই বৈঠক কমিউনিটির আঙিনায় একটি নিরাপদ ও আস্থা ভিত্তিক পরিসর তৈরি করে।
এই উঠান বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নাগরিক কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় আইনগত ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন।
আয়োজক নন্দিতা সুরক্ষার সমন্বয়কারী তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি জানান, আজ দুপুরে শহরের আলীপুরে বান্ধব পল্লীর আঙ্গীনায় পেরি প্রোগ্রামের আওতায় এই ঠৈকটি স্থানীয়দের মনোবল বাড়িয়েছে। “বিল্ডিং লিগ্যাল লিটারেসি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিভিক স্পেস” প্রকল্পের মাধ্যমে নন্দিতা সুরক্ষা ফরিদপুরের দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী ও তরুণদের পাশাপাশি নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্যদের যুক্ত করে আইনগত স্বাক্ষরতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ছয়টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মোট ২৪০ জন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী ও তরুণের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমাদের সমাজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জেলে, মুচি, যৌনকর্মী এবং নারী অধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নারী ও তরুণরা সামাজিক বঞ্চনা, সহিংসতা, সাইবার হয়রানি এবং আইন সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের কারণে প্রায়ই ন্যায়বিচার ও নাগরিক অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন। এই বাস্তবতা থেকেই কমিউনিটি-ভিত্তিক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা ও সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এই উঠান বৈঠকগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী ও তরুণদের জন্য আইনি সহায়তা পাওয়ার পথকে সহজ করবে এবং স্থানীয় আইনগত ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে। নন্দিতা সুরক্ষা বিশ্বাস করে, এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইনগত জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস এবং নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
