স্টাফ রিপোটার : মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে এমনি এমনিই তো আর কাড়াকাড়ি পড়ে যায়নি! মঙ্গলবার আবুধাবিতে আইপিএলের মিনি নিলামে বাংলাদেশি পেসারকে পেতে লড়াইয়ে নামে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি।
শেষ পর্যন্ত ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজের নতুন ঠিকানা হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সে। কেন এমন আকাশছোঁয়া দাম পেলেন, সেটি একদিন পরই বুঝিয়ে দিলেন ‘কাটার মাস্টার’।
বুধবার আইএলটি-টোয়েন্টিতে সাকিব আল হাসানের দল এমআই এমিরেটসের মুখোমুখি হয়েছে দুবাই ক্যাপিটালস। এই ম্যাচেই বল হাতে আগুন ঝরালেন মোস্তাফিজ।
৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন ফিজ। দুবাইয়ের হয়ে এই ম্যাচে সবচেয়ে সফল বোলারও তিনি। ৩০ বছর বয়সী তারকার দুর্দান্ত বোলিয়ের সামনে এমআই এমিরেটস ৮ উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছে ১৩৭ রান। টসে জিতে বোলিংয়ে নামা দুবাইয়ের হয়ে শুরুতে মোস্তাফিজ তেমন সুবিধা করতে পারেননি। নিজের প্রথম ওভারে দেন ১০ রান। পাননি উইকেট।
এরপর ফিজ বল হাতে নেন ইনিংসের ১৬তম ওভারে। সেই ওভারের চতুর্থ বলে ফেরান কামিন্দু মেন্ডিসকে। ১৮তম ইনিংসে হয়ে ওঠেন আরও ভয়ঙ্কর।
সেই ওভারের প্রথম বলে রশিদ খানকে আউট করার পর তৃতীয় বলে টম ব্যান্টনকেও সাজঘরে ফেরান মোস্তাফিজ। জোড়া আঘাত করে এমআই এমিরেটসের বড় স্কোরের আশাও প্রায় শেষ করে দেন তিনি।
ইনিংসের শেষ ওভারটিও করেন মোস্তাফিজ। অবশ্য সেই ওভার ছিল বেশ খরুচে। সেই ওভারে রোমারিও শেফার্ড ১ চার ও ১ ছয়ে নেন ১৬ রান।
স্লগ ওভারে কার্যকরী বোলিংয়ের কারণে বেশ সুনাম রয়েছে মোস্তাফিজের। সেই কারণেই বাংলাদেশি পেসারকে নিয়ে হয়েছে টানাটানি।
২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যের মোস্তাফিজের নাম নিলামে আসতেই প্রথমে আগ্রহ দেখায় তার সাবেক দল দিল্লি ক্যাপিটালস। এরপর তাকে দলে নেওয়ার লড়াইয়ে যোগ দেয় আরেক সাবেক দল চেন্নাই সুপার কিংস। সঙ্গে লড়াইয়ে নামে কলকাতা।
একে একে বিড করতে থাকে দলগুলো। মাঝে সরে যায় দিল্লি। তবে চেন্নাই ও কলকাতার লড়াই চলতেই থাকে। নিলামে লাফিয়ে বাড়তে থাকে মোস্তাফিজের দাম। শেষ পর্যন্ত দাম বেড়ে ২ কোটি থেকে দাঁড়ায় ৯ কোটি ২০ লাখে! আইপিএল নিলামে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ মূল্য এটি।
আইএলটি-টোয়েন্টিতে খেলছেন সাকিব আল হাসানও। তবে এমআই এমিরেটস দলের হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র এক ম্যাচ। বুধবার দুবাই ক্যাপিটালস ম্যাচেও একাদশে জায়গা হয়নি বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের।
